আজকাল প্রায় সব অটোমোবাইল কোম্পানি তাদের বাইক ও গাড়িতে যুক্ত করছে আধুনিক সব ফিচার। সেই সঙ্গে ড্যাশবোর্ডেও থাকছে নানান ধরনের আইকন ও সতর্কবার্তা। এসব আলোর উদ্দেশ্য একটাই—রাস্তায় নিরাপদে চলা। তবে এই আলো বা আইকনের অর্থ না বুঝলে উল্টো বিপদই ডেকে আনতে পারে। তাই নতুন গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা কোন আলো কী বোঝায়, তা জেনে রাখা জরুরি। আজ সেই আলোগুলির মানে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
রেড লাইট: সর্বোচ্চ সতর্কতার সংকেত
ব্রেক সতর্কবার্তা লাইট
এই আলো জ্বলে উঠলে বুঝতে হবে ব্রেক সিস্টেমে সমস্যা আছে। ব্রেক তেল কমে যাওয়া, ব্রেক প্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা অন্য কোনো ব্রেক–ত্রুটি এর কারণ হতে পারে। পার্কিং ব্রেক ছাড়ার পরও যদি আলো জ্বলে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে মেকানিক ডাকতে হবে।

ইঞ্জিন তেলের চাপ সতর্কবার্তা
ইঞ্জিনে তেলের চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে এই আলো জ্বলে। এটি উপেক্ষা করলে ইঞ্জিনের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। গাড়ি থামিয়ে তেলের মাত্রা পরীক্ষা করুন, প্রয়োজনে তেল দিন। সমস্যা না মিললে মেকানিকের সাহায্য নিন।
ইঞ্জিন চেক লাইট
ইঞ্জিনের সেন্সর ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয় এই আলো। এটিকে অবহেলা করলে ইঞ্জিনে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
ব্যাটারি চার্জ লাইট
এটি গাড়ির বৈদ্যুতিক সিস্টেমে সমস্যা নির্দেশ করে। ব্যাটারি নষ্ট হওয়া বা অল্টারনেটর কাজ না করার কারণেই সাধারণত এই আলো জ্বলে।

হলুদ/কমলা আলো: সতর্ক হোন, কিন্তু আতঙ্ক নয়
টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS)
টায়ারের চাপ কমে গেলে বা পাংচার হলে এই আলো জ্বলে। গাড়ি থামিয়ে টায়ারের অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে।
ABS সতর্কবার্তা
অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিলে এই আলো জ্বলে। ব্রেক ঠিকমতো কাজ করলেও ABS সুবিধা অকার্যকর হয়ে যায়। আলো স্থায়ীভাবে জ্বললে মেকানিকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
সবুজ/নীল আলো: শুধু তথ্য জানানো
হাই বিম ইন্ডিকেটর
নীল রঙের এই লাইট জানায় যে হাই–বিম হেডলাইট জ্বালানো আছে। এটি কোনও বিপদের সংকেত নয়, কেবল একটি বিজ্ঞপ্তি।
টার্ন ইন্ডিকেটর লাইট
ডান বা বামে মোড় নেওয়ার জন্য টার্ন সিগন্যাল চালু হলে তীর–চিহ্নের এই আলো জ্বলে। এটি সিগন্যাল ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা সেটিই জানায়।
আরও পড়ুন: ট্রাকের পেছনে কেন লেখা থাকে 'Horn Ok Please’
গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা ছোট ছোট এই আলোই বলে দেয় আপনার গাড়ির স্বাস্থ্য কেমন। তাই এগুলোর অর্থ জানা থাকলে রাস্তায় নিরাপদ থাকা যেমন সহজ হয়, তেমনই হঠাৎ কোনো সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নতুন গাড়ি কেনার পর তাই সবচেয়ে আগে ড্যাশবোর্ডের এই আলোগুলোর মানে জেনে রাখা জরুরি।
এজেড




