রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

পুরনো মোটরসাইকেল কেনার আগে যেসব বিষয় যাচাই করবেন

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৫, ১২:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

second hand motorcyle buying tips

অনেকেই বাজেট বাঁচাতে পুরনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেল কেনার দিকে ঝুঁকছেন। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অফিসযাত্রী, সবাই কম খরচে ভালো মানের বাইক পেতে চান। তবে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কেনার সময় শুধু বাইকের দাম নয়, খেয়াল রাখতে হয় আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক। না হলে পরে ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে। নিচে এমন ১০টি বিষয় তুলে ধরা হলো, যা পুরনো মোটরসাইকেল কেনার আগে অবশ্যই যাচাই করা উচিত।

১. বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা করুন

পুরনো বাইকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র। রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস, ইন্স্যুরেন্স, রোড পারমিট সব কাগজ হালনাগাদ আছে কিনা যাচাই করুন। ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর কাগজ অনুযায়ী মিলে কিনা তা চোখে দেখে নিশ্চিত হোন।

Buy_Motorcycle

২. বাইকের বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন

বাইকের ফ্রেম, ট্যাংক, হেডলাইট, সাইলেন্সার, হ্যান্ডেল বা সিটের অবস্থা দেখে বোঝা যায় এটি কতটা যত্নে রাখা হয়েছে। বেশি স্ক্র্যাচ, মরিচা বা ভাঙা অংশ থাকলে বুঝতে হবে বাইক হয়ত পড়ে গিয়েছে বা অবহেলায় ছিল।


বিজ্ঞাপন


৩. ইঞ্জিনের শব্দ ও পারফরম্যান্স শুনুন

ইঞ্জিন চালিয়ে শব্দ শুনুন। ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ, ধোঁয়া বা কম্পন থাকলে সমস্যা রয়েছে। স্টার্ট দেওয়ার সময় দেরি হলে বা বারবার কিক দিতে হলে ইঞ্জিন দুর্বল হতে পারে।

৪. গিয়ার ও ক্লাচ ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করুন

গিয়ার পরিবর্তনের সময় যদি খটখট শব্দ হয় বা খুব শক্ত লাগে, তাহলে গিয়ারবক্সে সমস্যা থাকতে পারে। ক্লাচ খুব ঢিলা বা শক্ত হলে সেটিও সমস্যা হতে পারে। সব গিয়ারে একবার করে চালিয়ে দেখুন।

byuing

৫. ব্রেক ও চাকার অবস্থা পরীক্ষা করুন

ফ্রন্ট ও রিয়ার ব্রেক কাজ করছে কি না, সেটা চালিয়ে পরীক্ষা করুন। পাশাপাশি টায়ারের অবস্থা, ফাটা বা পুরনো হয়ে গেছে কি না, টিউব থাকলে লিক আছে কি না, তাও যাচাই করুন।

৬. কিলোমিটার রিডিং বা ওডোমিটার যাচাই করুন

অনেক বিক্রেতা বাইকের ব্যবহার কম দেখানোর জন্য ওডোমিটার ঘুরিয়ে দেন। রিডিং অনুযায়ী বাইক বেশি পুরনো মনে হলে সেটি ভেবে দেখুন। পাশাপাশি টায়ারের অবস্থা, সিটের জীর্ণতা ও ইঞ্জিন পারফরম্যান্স মিলিয়ে অনুমান করুন।

৭. ইলেকট্রিক সিস্টেম পরীক্ষা করুন

হেডলাইট, টেললাইট, হর্ণ, ইন্ডিকেটর, ব্যাটারি, মিটার, কিছু কাজ করছে কিনা দেখে নিন। চার্জার কনেকশন, ব্যাটারি পুরনো হয়ে গেলে ভবিষ্যতে বাড়তি খরচ হবে।

৮. সার্ভিস হিস্ট্রি ও মালিকের ব্যবহার জানুন

মালিক কত দিন চালিয়েছেন, নিয়মিত সার্ভিস করিয়েছেন কি না, কখনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব প্রশ্ন করুন। ভালো ব্যবহার করা বাইক দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৯. টেস্ট রাইড নিন

চালিয়ে দেখে বোঝা যাবে আসল অবস্থাটা। স্টার্ট নেওয়া, গতি, ব্রেকিং, হ্যান্ডলিং সব কিছু বাস্তবে অনুভব করলেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বাইকের ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছে কি না কীভাবে বুঝবেন?

১০. দাম যাচাই করে নিন

একই মডেলের বাইক অন্য কোথাও কত দামে বিক্রি হচ্ছে তা দেখে নিন। বাইকটি পুরনো হলেও যদি খুব বেশি খরচ করতে হয়, তাহলে হয়তো নতুন বাইকই ভালো হবে। দাম-মান-বয়স তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

পুরনো মোটরসাইকেল কিনে বাজেট বাঁচানো সম্ভব, তবে না বুঝে কিনলে পরে মেরামতে খরচ, ভোগান্তি এমনকি আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই করে, টেস্ট রাইড দিয়ে ও কাগজপত্র নিশ্চিত হয়ে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর