সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এই শহরে এক সন্ধ্যা আড্ডা

তায়েব মিল্লাত হোসেন
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

এই শহরে এক সন্ধ্যা আড্ডা
সরকার আবদুল মান্নানের জন্মদিনের আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন নাট্যজন খায়রুল আলম সবুজ । ছবি: তায়েব মিল্লাত হোসেন

আড্ডার সংজ্ঞায় আয়োজনের কোনো স্থান নেই। এর মানে আড্ডা হতে হবে আড়ম্বরহীন। কিন্তু আমরা দেখি শহর ঢাকায় অনেক আড্ডাই হয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তেমনি এক আসর বসেছিল রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে পাঠক সমাবেশে। এ আয়োজনের কেতাবি নাম- ‘শব্দে গাঁথা জীবন: সরকার আবদুল মান্নানের জন্মদিনের আড্ডা’। যা আনুষ্ঠানিকতা ছাপিয়ে আসলে বন্ধু-স্বজন-সমমনাদের নিখাদ কথামালার দিকেই এগুতে থাকে। আলাপে আলাপে ঘড়ির কাঁটা কখন যে রাত নয়টা ছুঁয়ে যায়, তা যেন কেউ টেরই পাননি। তবুও না-বলা রয়ে যায় অনেকের কথাই।

5b120956-383b-495f-95a5-6f0fd69e4156

যেটুকু আনুষ্ঠানিকতা সেটুকু কিন্তু অনাকর্ষণীয় ছিল না মোটেই। সেখানে মূল কাজটি করেন সাহিত্যিক ও শিক্ষক ঝর্না রহমান। তুলে ধরেন ড. সরকার আবদুল মান্নানের শিক্ষা ভাবনা। তিনি যে প্রকৃত একজন শিক্ষক সেই বর্ননা দিয়ে ঝর্না রহমান বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, আমাদের শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের সংযোগ নেই। কিন্তু মান্নান ভাই সেই সংযোগ ঘটাতে পেরেছেন। তিনি প্রকৃত শিক্ষকের মতোই চৈতন্য উদ্দীপক উপকরণ খুঁজেছেন। শুধু সিলেবাস শেষ করা, আর বেতন নেওয়ার মধ্যেই শিক্ষকতাকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বইয়ের বাইরে আরো বড় জগত তৈরি করে শিক্ষার্থীদের ভেতরের শক্তি জাগাতে ভূমিকা রেখে চলেছেন সরকার আবদুল মান্নান।’

5dfc8470-d804-4af2-a836-53b848c82571

শুধু শিক্ষাবিদ মান্নান নন, আলোচনায় প্রসঙ্গ হিসেবে আসেন প্রাবন্ধিক মান্নানও। শিশু সাহিত্যিক মান্নানকেও এগিয়ে রাখেন কেউ কেউ। শুভাকাঙ্খীরা বই, ফুল, উত্তরীয় উপহার দিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সবার ভালোবাসায় আপ্লুত সরকার আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমার মা একটি কথা বলতেন, তোর বাবার রাস্তা দেখলেই হাঁটতে ইচ্ছে করতো, আর মানুষ দেখলেই কথা বলতে ভালোবাসতেন। তুই সেই স্বভাবটাই পেয়েছিস। আমার আজো মানুষ দেখলেই কথা বলতে ভালো লাগে। আজো আমি রাস্তায় হাঁটি।’

স্বচ্ছতার সঙ্গে যাতে জীবনকে যাপন করে যেতে পারেন, সবার কাছে সেই ইচ্ছের কথা ঘুরেফিরে প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর সততা চর্চার দিকটির প্রশংসা করলেন পুরো আয়োজনের সভাপতি নাট্যজন ও লেখক খায়রুল আলম সবুজ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার উদ্দেশ্যে হলো মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা হয়নি। তৈরি হয়েছে চাকরিজীবী শ্রেণি। সমাজে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রবল ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সেটা কমিয়ে আনতে মান্নানের মতো মানুষদের আরো বেশি প্রয়োজন।’

9a97aa63-d8bf-4520-a81d-106149b0df09

রঙ্গে ভরা বঙ্গ, পুথিনিলয় ও পাঠক সমাবেশের যৌথ এই আয়োজনে আরো বক্তব্য দেন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রহমান, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার, অনুবাদক সৌম্য হায়াৎ, লেখক ড. হোসনে আরা, প্রকাশক শ্যামল পাল, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক তায়েব মিল্লাত হোসেন প্রমুখ। সবাই প্রত্যাশা রাখেন, ১৯৬৪ সালের ২১ জুলাই জন্ম নেওয়া শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক ড. সরকার আবদুল মান্নান দেশের শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির অগ্রগতিতে আরো ভূমিকা রাখবেন।

আলোচনা-আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী সরদার হিরক রাজা ও তাপসী রায়, আবৃত্তি করেন জোবায়দা লাবণী। পুরো আয়োজন সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইমরান উজ-জামান ও শিক্ষক সাবিহা সুলতানা।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর