Dhaka Mail Logo

নারী ও শিশু

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাল্যবিবাহের ঝুঁকি, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের মেয়েদের ওপর বাল্যবিবাহের বাড়তে থাকা ঝুঁকি নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) ও ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশ। 

সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত ইসমাইলি জামাতখানা অ্যান্ড সেন্টারে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উঠে আসে, কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নানা সংকট পরিবারগুলোর ওপর তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে এবং পরোক্ষভাবে মেয়েদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে দেয়। প্যানেলিস্টরা উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য এবং নারী অধিকার একে অপরের সঙ্গে গভীরভাব যুক্ত। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Photo_1

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসেন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন ও বাল্যবিবাহকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাদের ওপর সংসারের ভার এসে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অনেক পরিবার কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়।” তিনি আরও যুক্ত করেন, “একটি ঝড় একটি পরিবারের জীবন এলোমেলো করে দিতে পারে, স্কুল ভাসিয়ে নিতে পারে; কিন্তু কোনো দুর্যোগই যেন একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে বাধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের কাজ করতে হবে।”

প্রথম প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শামীমা আক্তার। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সি৩ইআর-এর উপপরিচালক রৌফা খানুম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট অনিতা গাজী রহমান, সিটিব্যাংক এন.এ. বাংলাদেশের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স রুমানা আহমেদ এবং জেন্ডার স্পেশালিস্ট আফসানা চৌধুরী।

দ্বিতীয় প্যানেলটি সঞ্চালনা করেন আইএইচএফ-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা সৈয়দ ফজলে নিয়াজ। এতে আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিম ফিরোজ, বুরো বাংলাদেশের হেড অব রিসার্চ মাইমুনা জাহরা ফারিহ, আমাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইসরাত করিম ইভ এবং গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস কাউন্সিলের কান্ট্রি লিড ফারাহ আনজুম।

Photo

আলোচকরা জোর দিয়ে বলেন, শুধু দুর্যোগকালীন ত্রাণ দিলেই হবে না; বরং পরিবারগুলো যেন দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হতে পারে সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও আয়ের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

ইসমাইলি সিভিক বাংলাদেশের লিড মুনিরা আহমেদ ফিদাই বলেন, “মেয়েদের কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী হিসেবে না দেখে, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন (আইএইচএফ) শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ইসমাইলি সিভিক’ সমাজ উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। অনুষ্ঠানটিতে পিআর পার্টনার হিসেবে ছিল ব্যাকপেজ পিআর।

এজেড