images

নারী ও শিশু

শিশু-নারীর ওপর ধর্ষণসহ সকল সহিংসতা বন্ধের দাবিতে সমাবেশ

ঢাকা মেইল ডেস্ক

২৩ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ ও নির্যাতনসহ সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধের দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব এর সামনে ‘গ্রীন ভয়েস’ এর নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক উপটিম বহ্নিশিখার উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা যেন থামছেই না। একের পর এক তনু, নুসরাত, মুনিয়া, আছিয়া ও রামিসার ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দিলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ঘটনায় আজও পূর্ণ বিচার নিশ্চিত হয়নি।

11399b89-964b-40b5-8045-7305c49e1f86

অতিথিদের বক্তব্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রে প্রতিবছর হাজার হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন—এ যে কী ভীষণ লজ্জার! নারীরা কোন অপরাধে প্রতিদিন এ ধরনের পৈশাচিকতার শিকার হচ্ছেন, তার জবাব দিতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের। কোনো ধর্ষণের জনপদ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীন হয়নি এ দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী প্রতি মুহূর্তে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকার অর্থ হলো দেশের উন্নয়নের গতি অর্ধেক হয়ে যাওয়া। আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে মোড়কে আবদ্ধ আইনের সঙ্গে ড্রয়িংরুমের সাজানো শোপিসের তেমন কোনো পার্থক্য থাকে না। ড্রয়িংরুমে সাজিয়ে রাখার জন্য আইনের সৃষ্টি হয়নি। বরং আইনের যথার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে নাগরিকের নিরাপদ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত থাকে আইনের সার্থকতা।

শিক্ষা সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন বলেন, ধর্ষক যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। আগেও এ দেশের নিরাপদ ক্যান্টনমেন্টে তনুর বিবস্ত্র লাশ পড়ে থাকতে দেখেছে মানুষ। এ দেশে ধর্ষণের বিচার না পেয়ে হতাশায় গলায় ফাঁস নেয় কিশোরী! এর শেষ হোক! এর শেষ চাই!

14317e3e-6087-4088-8c18-3579b0d6c924

গ্রীন ভয়েস এর উপদেষ্টা সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার শিল্পী আবু সেলিম বলেন, রাজনীতি, টাকা, ক্ষমতা—সব মিলিয়ে ধর্ষকরা অনেক সময় নিজেদের ‘অপরাধমুক্ত’ মনে করে। থানায় মামলা নেয় না, হাসপাতাল রিপোর্ট দেয় না, সাক্ষী চুপ থাকে—সবই তাদের হাতে। একজন ধর্ষিতার জীবনে কেবল ধর্ষণই চূড়ান্ত নয়—তারপর শুরু হয় নতুন করে মানসিক ধর্ষণ।

গ্রীন ভয়েস এর কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক শাকিল কবির বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে সমাজে বার্তা যাবে—ধর্ষণ করলে কেউ রেহাই পাবে না। নারী-পুরুষ সমান, কারও শরীর কারও সম্পত্তি নয়—এই বোধ শিশুদের মধ্যেই গড়ে তুলতে হবে। শুধু বইয়ে নয়, বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগ করতে হবে। ধর্ষিতার নাম, ছবি, পরিচয় প্রকাশ একেবারে নিষিদ্ধ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ফাহমিদা নাজনীন বলেন, ধর্ষক কেবল মানুষ নয়, একটি মানসিকতা। সে মানসিকতা যদি সমাজ থেকে দূর না করা যায়, তাহলে ফাঁসি দিয়েও লাভ হবে না। নতুন ধর্ষক জন্ম নেবে—নতুন মুখে, নতুন ছদ্মবেশে। আমরা যদি সত্যিই নারীর প্রতি সম্মান দিতে চাই, তবে আমাদের লড়াই শুরু করতে হবে মন থেকে, মুখোশ থেকে নয়। ধর্ষণ শুধু শরীরের না, আত্মার, অস্তিত্বের অপমান। আর এই অপমানের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলতেই থাকবে, যতদিন না সমাজ নারীকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করে।

218fe54e-d9ad-4027-bf79-6086a7ce1e0f

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে নিম্নোক্ত ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—

১. নারী ও শিশু নির্যাতনের সকল ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

২. ধর্ষণ ও হত্যার মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করতে হবে।

৩. বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

৪. নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।

৫. ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি, সামাজিক ও মানসিক সহায়তা দিতে হবে।

 

বহ্নিশিখার কেন্দ্রীয় সংগঠক ফাহমিদা নাজনীনের সভাপতিত্বে  এবং গ্রীন ভয়েস এর কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমনের সঞ্চালনায় সমাবেশে  অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন—সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা খাতুন, গ্রীন ভয়েস হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজ শাখার সংগঠক রিদিকা রিদু, গ্রীন ভয়েস টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শাখার সভাপতি আবু সাঈদ, গ্রীন ভয়েস ঢাকা কলেজ শাখার সংগঠক বায়জিদ আহমেদ, গ্রীন ভয়েস কবি নজরুল কলেজ শাখার সংগঠক মোঃ এ এইচ মুন্না, গ্রীন ভয়েসসরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার সংগঠক মোঃ রাতুল হাসান, গ্রীন ভয়েস সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখার সংগঠক ফজলে রাব্বিসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

প্রতিনিধি/টিবি