images

নারী ও শিশু / জাতীয়

কোন কোন লক্ষণ দেখলে মেয়েশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হতে হবে?

ঢাকা মেইল ডেস্ক

২১ মে ২০২৬, ০৯:২২ এএম

‘তখন আমি গ্রামের স্কুলে ক্লাস টু-তে পড়ি। আমাদের বাড়িটা অনেকটা উঠোনঘেরা ‒ চারপাশে কয়েকটি ঘর, একেকটিতে একেক পরিবার। সবাই আত্মীয়। একে অন্যের ঘরে যাওয়া-আসা, খাওয়া-দাওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। একদিন দুপুরে আমার এক কাজিন আমাকে তাদের ঘরে ডাকলো। আমিও স্বাভাবিকভাবেই গেলাম। গিয়ে দেখি ঘরে আর কেউ নাই। এরপর সে আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার মুখ চেপে ধরে।’

নিজের শৈশবের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই বলছিলেন ২৮ বছর বয়সী সুরভী। তার সামাজিক সুরক্ষার কথা ভেবে এখানে তার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি তখন চিৎকার করতে পারছিলাম না, কাউকে ডাকতেও পারছিলাম না। চোখের সামনে শুধু অন্ধকার দেখছিলাম... বড় হয়ে বুঝেছি, এটিকেই বলে যৌন নির্যাতন।

সুরভীর মতো অভিজ্ঞতার কথা খুব কম মানুষই প্রকাশ্যে বলেন। তবে শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা বা নির্যাতনের বড় একটি অংশ ঘটে পরিচিত মানুষের হাতেই ‒ যাদের মধ্যে থাকতে পারেন আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা পরিচিত কেউ।

সম্প্রতি ঢাকার পল্লবীতে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে ঘরে-বাইরে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

বিশেষ করে মেয়েশিশুরা কতটা নিরাপদ, পরিবারগুলো কীভাবে ঝুঁকি চিনবে এবং সন্তানকে নিরাপদ রাখতে কী ধরনের সচেতনতা জরুরি ‒ এসব প্রশ্ন এখন অনেকের মনে।

5

চেনা মানুষই যখন ঝুঁকি

সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরে একটি ফ্ল্যাটে শিশুটিকে প্রথমে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এরপর গলা কেটে হত্যা করা হয়। তার মাথার অংশটি পাওয়া যায় টয়লেটে এবং শরীরের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে।

ঘটনার দিন, গত ১৯শে মে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধ গোপন ও মরদেহ সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে আসামি মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা করেছিল; কিন্তু শিশুটির মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় সে তার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করতে পারেনি এবং জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কারণ যে ফ্ল্যাটে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, সেটি ছিল রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাট এবং এই হত্যাকাণ্ডে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন রামিসাদের প্রতিবেশী। তাই, অনেকেই লিখছেন, শুধু প্রতিবেশী না, আত্মীয়স্বজনকেও যেন শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে অন্ধবিশ্বাস না করা হয়।

অবশ্য, পরিসংখ্যানও তেমনটাই বলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই পরিচিতদের দ্বারাই শিশুরা যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ১০০টি যৌন নির্যাতনের ঘটনার ৯৩টির ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ভুক্তভোগী শিশুর পরিচিত কেউ থাকে, বলছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আরএআইএনএন। এ প্রতিষ্ঠানটি ধর্ষণ, সহিংসতা নিয়ে কাজ করে থাকে।

এর মধ্যে পরিবারের সদস্য থাকে ৩৪ শতাংশ আর পরিচিত থাকে ৫৯ শতাংশ।

বাংলাদেশেও তাই। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি নিবন্ধ অনুযায়ী, "শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রেই যৌন নির্যাতনকারীরা শিশুর...আত্মীয়, বন্ধু বা বিশ্বস্ত কেউ হয়।"

4

২০২০ সালে প্রকাশিত 'চাইল্ড সেক্সুয়াল এবিউজ ইন বাংলাদেশ' শিরোনামের গবেষণাতেও বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীর পরিচিত কেউ থাকেন।

রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন কয়েক বছর আগে অপরাধীর আচরণ ও বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণের ওপর যৌথভাবে একটি গবেষণা করেছেন।

তাতে দেখা গে্ছে, শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার বেশিরভাগ ঘটনায়ই পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা পরিচিত মানুষ জড়িত থাকে; অপরিচিতরা না।

গবেষণাটি বলছে যে যৌন সহিংসতার ঘটনার মাত্র ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তি, ৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ছিল শিশু আত্মীয়, আর ৪২ শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ছিল পরিচিত কেউ ‒ যেমন প্রতিবেশী, পরিচিত ব্যক্তি বা নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত করা মানুষ।

এদিকে, জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যমতে, পৃথিবীতে প্রতি আট জনে একজন নারী ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

আর প্রতি বছর যত সংখ্যক শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা রিপোর্ট হয়, সেখানে ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশই ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরী, বলছে সংস্থাটি।

অধ্যাপক নাসরীন বলেন, বাচ্চারা কিছু বলতে পারে না বলেই তারা টার্গেট।

নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা অধিকার কর্মীরাও বলছেন, মূলত নিকটাত্মীয়ের প্রতি যে বিশ্বাস থাকে, তা ব্যবহার করেই এই ধরনের কাজগুলো করা হয়।

1

এমন ঘটনার প্রভাব কতটা গভীর

প্রতিবেদনের শুরুতে যে সুরভীর গল্প বলা হয়েছিলো, তিনি বলছিলেন যে শৈশবের ওই দুঃসহ স্মৃতি তিনি আজও ভুলতে পারেননি।

তার ভাষায়, আমি তখন এগুলো বাসায় বলতে পারিনি, কারণ আমায় ভয় দেখানো হয়েছিলো। আর এরপর আমি যত বড় হলাম, আমার তত মনে হতে লাগলো যে আমি সমাজে ফিট ইন (খাপ খাওয়া) করি না; আমার আত্মবিশ্বাস নাই হয়ে যেত থাকলো। আমার নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে হতো; আমার মনে হতো যে জানাজানি হলে এই সমাজ আমায় কীভাবে নেবে, বিশেষ করে বিয়ের পর আমার পার্টনার এটাকে কীভাবে দেখবে এবং এটা আমার আজও মনে হয়।

এই ধরনের যৌন সহিংসতার ঘটনার শিকার হওয়ার পর সাধারণত শিশুরা যে ধরনের অনুভূতির মধ্য দিয়ে যায়, মিজ সুরভীর কথায় সেগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার এ প্রসঙ্গে বলছিলেন, এমন ঘটনায় শিশুর বিষণ্ণতা হতে পারে, উদ্বেগ হতে পারে। আর উদ্বেগ-বিষণ্ণতা থেকে তার জেদ বাড়তে পারে, সে খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। পড়াশোনায় অমনোযোগী হতে পারে, স্কুলে যেতে না চাইতে পারে। তার মাঝে এক ধরনের হীনমন্যতা তৈরি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারও সাথে মিশতে ভয় পায়।

শুধু এগুলোই না, যৌন সহিংসতার শিকার শিশুদের বিশেষ কোনো রোগ ধরা না পড়লেও কিছু শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন‒ ঘুম কম হওয়া, রাতে ঘুমের মাঝে কেঁপে ওঠা, মাথা ধরা, বুকে ব্যথা, সামান্য চাপেই জ্ঞান হারানো, খিঁচুনি, শ্বাস নিতে সমস্যা।

মেখলা সরকার বলেন, মোট কথা, ওই শিশুর মানুষ সম্বন্ধে ভীতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, সে পুরুষদের এড়িয়ে চলতে চাইতে পারে। অর্থাৎ, মানুষের সাথে স্বাভাবিক মেলামেশার জায়গায় ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

2

শিশুর নিরাপত্তায় অভিভাবকের করণীয়

যৌন সহিংসতার শিকার শিশুদের পাশে সবসময় পরিবারের থাকাটা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেখলা সরকার।

তার পরামর্শ, যদি উপরে বর্ণিত লক্ষণগুলো শিশুর মাঝে হঠাৎ করে দেখা যায়, তাহলে শিশুর বাবা-মার উচিৎ শিশুর আচরণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা, তার সঙ্গে কথা বলা এবং কোনো ধরনের চাপ বা ভয় না দিয়ে তাকে নিরাপদ অনুভব করানো।

প্রয়োজনে শিশুকে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া।

তবে এই ধরনের ঘটনার শিকার যেন কোনো শিশু না হয়, সেজন্য বাবা-মায়েদেরকে কিছু বিষয়ে আগাম সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলেছেন তিনি।

তার ভাষায়, শিশুর ওপর যৌন সহিংসতা আমাদের দেশে খুবই কমন। রিলেটিভদের দ্বারা এটি বেশি হয়। তাই বাবা-মাকে প্রথম থেকেই খেয়াল রাখতে হবে যে বাচ্চা কোথায় যাচ্ছে, কার কাছে যাচ্ছে। এর মানে এটা না যে বাবা-মা সবসময় তার পাশে পাশে থাকবে। কিন্তু বাবা-মা জানবে যে বাচ্চা কোথায় যাচ্ছে এবং যাদের সাথে আছে, তারাও জানবে যে বাবা-মায়ের নজর আছে।

আর শিশুকে প্রথম থেকেই ব্যাড টাচ-গুড টাচ (স্পর্শের ভালো-খারাপ) নিয়ে ধারণা দেওয়া উচিত এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা নিয়েও ধারণা দেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।

তার পরামর্শ, শিশু তিন-চার বছর থেকেই তার বডি পার্টসের বিষয়ে জানবে, বিশেষ করে প্রাইভেট পার্টস... যে এটা অন্য কেউ টাচ করবে না। শুধু বাবা-মা গোসল করানোর সময় বা সে অসুস্থ হলে এবং চিকিৎসক এটা স্পর্শ করতে পারবে। কেউ তার জামা খুলে ফেলতে পারবে না। কেউ তার সাথে এগুলো করলে সেখান থেকে সরে যাবে, চিৎকার করবে। তাকে বলতে হবে যে শুধু প্রাইভেট পার্টে না, যে টাচে অস্বস্তি হবে সেটিকে ‘নো’ বলবা এবং আমায় (বাবা-মা) বলবা।

তিনি জানান, শিশু যেন অপরিচিত কারও সাথে না যায় সেটিও তাকে বোঝাতে হবে। আর যারা কর্মজীবী বাবা-বা, তাদের সামর্থ্য থাকলে শিশুকে নজরে রাখার জন্য তারা যেন সিসি ক্যামেরা কিনে, এমনকি বাসায় শিক্ষক পড়ালেও বাবা-মাকে মাঝে মাঝে সেখানে যেতে হবে।

3

শিশু সুরক্ষায় আইনে কী আছে

শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের নাম ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’।

২০০০ সালের আগে ধর্ষণের ঘটনায় জরিমানার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জরিমানা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এই আইনে বলা হয়, ‘যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

এর ব্যাখ্যায় আবার বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ১৬ বছরের বেশি বয়সের কোনো নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন করে বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ১৬ বছরের কম বয়সের কোনো শিশুর সহিত তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ছাড়া যৌনকর্ম করেন, তা হলে তিনি উক্ত নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।’

এছাড়া, যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন তাহলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা বা আহত করার চেষ্টা করা হলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। আর ধর্ষণের চেষ্টা করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

Rape

আইন আছে, প্রয়োগ নেই

তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বাংলাদেশে আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই।

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান  বলছিলেন, আইনে কোনো সমস্যা নেই। নেই আইনের বাস্তবায়ন। আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মাঝে মামলা শেষ করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দিনের পর দিন নারী-শিশু মামলাগুলো পড়ে আছে। ‘কোনো কারণে যদি তদন্ত না করতে পারে’... এরকম একটা ক্লজ আছে। সেটিকে ব্যবহার করে এটি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বলা আছে, ৩০ দিনের মাঝে চার্জশিট দিতে হবে। তাহলে কেন চার্জশিট লিখতে পুলিশের এত সময় লাগে? কেন ৯০ দিন চলে যায়? আমরা (সাধারণ মানুষ) মনে করি, পুলিশ তো চার্জশিট দিছিলো। আসামীরা কোর্ট থেকে বের হয়ে গেছে... কিন্তু পুলিশ যদি চার্জশিটে ফাঁকফোঁকড় রেখে দেয়, তাহলে তো হবেই। অর্থাৎ, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সদিচ্ছার অভাব আছে।

এসময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন ধর্ষণের পর মেরে ফেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারণ শিশু বেঁচে গেলে সে তাকে অত্যাচারের কথা বলে ফেলতে পারে।

এছাড়া, এই ধরনের অনেক ঘটনাই সামনে আসে না জানিয়ে তিনি বলেন, মূল জটিলতা হয় পরিবারে। সদস্যরা বলে, যা ঘটার ঘটেছে, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক, এবার ধামাচাপা দাও। তারা ভাবে মেয়ের বিয়ে হবে না, আমরা তো এখানেই থাকবো।

অ্যাডভোকেট সালমা আলীর সাথেও এ প্রসঙ্গে কথা হয় বিবিসি বাংলা'র।

তার মতে, বাংলাদেশে মেয়েশিশুর জন্য ঝুঁকি সব জায়গায়। ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই। তবে এই ধরনের ঘটনায় পরিবার এগুলোকে গোপন করার চেষ্টা করে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্বিতীয়বার সহিংসতার শিকার হওয়ার ভয়ে থানায় যাওয়ার বিষয়টা নিরুৎসাহিত করা হয়।"

‘আর আমাদের থানাগুলোতে পরিবেশ যেরকম হওয়ার কথা, সেরকম নেই। আমাদের ভালো পুলিশ অফিসার নেই। থানায় নারীবান্ধব পরিবেশ নেই,’ যোগ করেন তিনি।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত আদালত ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো প্রয়োজন।

তাদের ভাষ্য, দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত হলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে।

এছাড়া, শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবারের পাশাপাশি স্কুল, কমিউনিটি ও রাষ্ট্রের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। এদের মাঝে সমন্বয়ের অভাব, জনবল সংকট ও পর্যাপ্ত মনিটরিং না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরণের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও নারী অধিকার সংগঠনগুলোরও সক্রিয় ভূমিকা রাখাটা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। সূত্র: বিবিসি বাংলা

/এএস