ঢাকা মেইল ডেস্ক
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আইনের সংঘাতে আসা শিশুদের জীবনদক্ষতা উন্নয়নে সমাজসেবা অধিদফতরের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক), টঙ্গী, গাজীপুরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত দুইদিনব্যাপী ব্যতিক্রমী জীবনদক্ষতা উন্নয়ন বুটক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেট।
সোম ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বুটক্যাম্পে কেন্দ্রের ৬৭১ জন নিবাসী অংশ নেয়। দুইদিনে মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি সেশন ছিল ২৫ মিনিটের, যেখানে এক সেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অংশগ্রহণকারী শিশুরা অন্য ক্যাম্পে চলে যায়। এভাবে টানা চার ঘণ্টাজুড়ে শিশুরা ১১টি ক্যাম্প ঘুরে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করে।
মঙ্গলবার সকালে বুটক্যাম্পের উদ্বোধন করেন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মানস বিশ্বাস। সভাপতির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদফতরের প্রতিষ্ঠান শাখার পরিচালক সমীর মল্লিক বলেন, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে খেলাধুলা, প্রশিক্ষণসহ যুগোপযোগী সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য তিনি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং পর্যায়ক্রমে সমাজসেবা অধিদফতরের অধীন অন্যান্য শিশু সুরক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের বুটক্যাম্প আয়োজনের ঘোষণা দেন।

বিদ্যমান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র তিনটির সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক ও সমাজসেবা অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, প্রকল্পের অর্থায়নে আগামী মাসে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবাসীদের জন্য বৃহৎ পরিসরে একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত নতুন প্রশাসনিক কাম একাডেমিক ভবন চালু হলে পুরনো প্রশাসনিক ভবনে পূর্ণাঙ্গ স্কুল কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্কুলে ইনক্লুসিভ এডুকেশন সিস্টেমের আওতায় কেন্দ্রের নিবাসী শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ শিশুরাও পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের শিশুদের নিয়ে ‘এসইউকে স্পোর্টিং ক্লাব’ নামে একটি ক্রীড়া ক্লাব গঠনের উদ্যোগের কথাও জানান, যাতে তারা জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।
বিকেলে শিশুদের সারাদিনের বিভিন্ন সেশনে অর্জিত জ্ঞানের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন ও নিবাসীদের কণ্ঠে গান অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন।

বুটক্যাম্পে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মো. শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক (আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশন্স) চন্দন জেড গমেজ, হেড অব চাইল্ড প্রটেকশন স্ট্রেলা রুপা এবং ঢাকা আরবান প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার জোয়ানা ডি রোজারিও।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লিজা মিত্রের উপস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক), টঙ্গী, গাজীপুর ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানা যায়, ১৯৭৪ সালে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর এ ধরনের ব্যতিক্রমী ও ব্যাপক পরিসরের জীবনদক্ষতা বুটক্যাম্প এর আগে কখনো আয়োজন করা হয়নি।
/এএস