নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
গত কয়েকদিন থেকে হঠাৎই বৃষ্টি হঠাৎই রোদ উঠছে। যার কারণে কখনো তাপমাত্রা কম অনূভুতি হচ্ছে আবার বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর ভ্যাপসা গরম অনূভুতি হচ্ছে।
তাপপ্রবাহের কারণে অতিরিক্ত গরম অনূভুতি
গতকয়েদিন ঢাকাসহ কয়েকটি জেলার উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কারণে ওইসব জেলায় গরম অনুভূতি বেশি হয়েছে। এছাড়া সাগরে লঘুচাপ সৃষ্ট হওয়ায় মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় এসব জেলায় ভ্যাপসা গরম অনুভূতি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গত কয়েকদিন দেশের ২২ জেলার উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছে। বর্তমান সাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের উপর বৃষ্টিপাতে পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে চলমান এ তাপপ্রবাহ প্রশমিত হয়েছে।
যেসব জেলার উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল-ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ ময়মনসিংহ (৪ জেলা) ও সিলেট (৪ জেলা) বিভাগ।
রোদ ও বৃষ্টির মিশেলে বাড়বে গরমের অস্বস্তি
দেশের বিভিন্ন স্থানে রোদ ও বৃষ্টি একসঙ্গে হওয়ায় গরমের অস্বস্তি বাড়তে পারে। বৃষ্টির পর রোদ উঠলে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়।
আবহাওয়াবিদ ড.মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, রোদ ও বৃষ্টি এক সঙ্গে হলে গরমটা বেশি অনুভূত হবে। কারণ আমরা সবাই জানি বৃষ্টির পর রোদ উঠলে গরম বেশি লাগে।
গরম বেশি লাগার কারণ ব্যাখা করে তিনি বর্ষায় মেঘ খুব কাছে চলে আসার কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে বৃষ্টির পর রোদ ওঠলে শরীর থেকে যে ঘাম বের হয়, তা আবার বাতাস শুষে নিতে পারে না। কারণ বাতাস আগে থেকেই ভেজা থাকে। ফলে শরীরের অভ্যন্তরের তাপমাত্রা ত্বকের ওপরে জমে থাকা ঘামের কারণে বেরোতে পারে না। তাই ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। এই সময় আবহাওয়া তপ্ত হয়ে ওঠবে না।
এল নিনো ও লঘুচাপের প্রভাবে বর্ষার আচরণে পরিবর্তন
এল নিনোর প্রভাব, সাগরে একাধিক লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের বর্ষার আচরণে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্ষার শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হলেও শেষ দিকে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতাও বাড়ছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ ঢাকা মেইলকে জানান, এবার এল-নিনো থাকায় আমাদের অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে গড় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তবে অল্প সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া আমাদের মৌসুমি ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে জুন মাসে যেভাবে বৃষ্টি হতো, ইদানিং বর্ষার শুরুতে সেই তুলনায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত কয়েক বছরেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে। আগে বর্ষার শুরুতে টানা তিন থেকে চার দিন বৃষ্টি হতো, কিন্তু এখন আর সে রকম হয় না। আবার দেখা যায়, বর্ষাকালের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক বেশি হয়। যেহেতু এ বছর একটি এল নিনোর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
হঠাৎ হঠাৎ অতিবৃষ্টি এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার এল নিনোর প্রভাব, সাগরে একাধিক লঘুচাপ, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বর্ষার চরিত্র পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষার শুরুতে বৃষ্টি কম হলেও পরে বেশি হচ্ছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্তও বৃষ্টি হচ্ছে। অর্থাৎ গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা তার আচরণ পরিবর্তন করছে।
এমএইচএইচ/এআরএম