images

আবহাওয়া

সারাদেশে ৪ দিন বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

গ্রীষ্মকালের তাপপ্রবাহ কাটিয়ে গত দুই দিনের বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ায় বেশ স্বস্তির আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে এই সময়ে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে। বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ এক ফেসবুক পোস্টে বজ্রপাতের ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, গত ১২ ঘণ্টা (সোমবার দিবাগত রাত ৩টার পর থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত) বাংলাদেশের ওপরে যে পরিমাণ বজ্রপাত হয়েছে, এমন পরিমাণ বজ্রপাত আমার জীবনে দেখিনি।

দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংগঠন-বিডব্লিউওটি এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার মধ্যে দেশের কিছু কিছু স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে রংপুর বিভাগের কিছু জেলাসহ দেশের আরো কিছু জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে।

এদিকে গত কয়েকদিনে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিতে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সামনের ৪ মে পর্যন্ত ভারী ও অতিভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সংখ্যাও অনেক বেশি থাকবে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বিশেষ সতর্কতার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বজ্রপাত অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে কেবল শুধু প্রাণহানি নয়, বজ্রাঘাতে পেশিতে তীব্র ব্যথা, হাড় ভাঙা, কানে কম শোনা, খিঁচুনি, শরীর পুড়ে যাওয়া, চোখে ছানি এমনকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়।
 
নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন
 
ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হলে দ্রুত শক্ত ও নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। সম্পূর্ণ বন্ধ গাড়িও নিরাপদ হতে পারে। খোলা জায়গা, ঝুপড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয় এড়িয়ে চলতে হবে।
 
বড় গাছের নিচে দাঁড়ালেই বিপদ
 
ঝড়ের সময় বাইরে থাকলে কখনোই বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু গাছে পড়ে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে প্রবাহিত হয়। এতে কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিও তড়িতাহত হতে পারেন।

শিশুদের সচেতন করুন
 
বজ্রপাতের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিষয়ে শিশুদের শেখানো জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় শিশুরা অনেক বেশি ভয় পায়। তাই তাদের আগে থেকেই সচেতন করতে হবে যাতে সংকটের সময় একা থাকলেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।  
 
ঘরের ভেতরেও সতর্ক থাকতে হবে
 
ঝড়ের সময় জানালা ও দরজা থেকে দূরে থাকতে হবে। বজ্রপাত সরাসরি ভবনে না পড়লেও বৈদ্যুতিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে।
 
পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
 
বজ্রপাতের সময় সুইমিং পুল, নদী, হ্রদ বা যেকোনো জলাশয় থেকে দূরে থাকুন। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
 
বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র এড়িয়ে চলুন
 
ঝড়ের সময় তারযুক্ত ফোন, কম্পিউটার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুৎ প্রবাহে অতিরিক্ত চাপ পড়ে যন্ত্র নষ্ট বা শক লাগার ঝুঁকি থাকে।
 
ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন
 
বেড়া, লোহার খুঁটি, ছাতা বা যেকোনো ধাতব বস্তু বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। তাই এসব থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
 
ঝড় থামার পরও অপেক্ষা করুন
 
শেষ বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হওয়া নিরাপদ। কারণ ঝড় কমে গেলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না।

এফএ