নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ভোরের আলো ফোটার আগেই নামা টানা বৃষ্টিতে কিছুটা স্থবির শহরের জনজীবন। দিনের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়, অর্থাৎ সকালেই এই বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নগরজীবনে।
অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, দিনমজুর—প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে।
হঠাৎ বৃষ্টিতে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়, তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। এর সঙ্গে যুক্ত হয় জলাবদ্ধতার সমস্যা, ফলে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। অনেকেই সময়মতো কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেননি, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ভিজেই রওনা হয়েছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল সাতটার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমতে শুরু করে। এতে করে রিকশা, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়।
গণপরিবহন কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় বিভিন্ন স্টপেজে। অনেকেই ভিড় ঠেলে গাড়িতে উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। আবার যারা হেঁটে চলাচল করেছেন, তাদের জন্য ছিল পিচ্ছিল রাস্তা ও জমে থাকা পানির ঝুঁকি।
মিরপুর এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাশেদ হোসেন বলেন, সকালেই এমন বৃষ্টিতে বের হয়ে পড়েছি বিপদে। রাস্তায় পানি জমে আছে, গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না, অফিসে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিকভাবে বের হলেও আজ পুরো পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।
নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। যারা প্রতিদিন সকালেই কাজের সন্ধানে বের হন, সেই দিনমজুরদের অনেকেই বৃষ্টির কারণে কাজ পাননি। ফুটপাত বা নির্দিষ্ট শ্রমবাজারে বসে থেকেও কাজের ডাক না পেয়ে হতাশ হয়ে সময় কাটাতে দেখা গেছে তাদের। মো. করিম নামের এক শ্রমিক বলেন, সকাল থেকে বসে আছি, বৃষ্টির জন্য কেউ কাজ দেয় না। আজকের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।
আরও পড়ুন: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। স্কুল-কলেজগামী অনেক শিক্ষার্থী ভিজে অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। অনেক অভিভাবককে সন্তানদের ছাতা ধরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে, আবার কেউ কেউ বৃষ্টির কারণে দেরিতে বের হয়েছেন। এতে করে রাস্তায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে নগরের চলাচল আরও ধীর হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে বের হওয়ার সময় বৃষ্টির তীব্রতা কম থাকলেও পথে বের হয়ে পড়ার পর বৃষ্টি বাড়তে থাকে, ফলে তারা ভিজে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে যেমন শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর সময়ও বেড়ে গেছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং তাপমাত্রাও কমতে শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার সকালেও একই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম ও তাপপ্রবাহের মধ্যে এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও তা পুরোপুরি স্বস্তির বার্তা হয়ে আসেনি নগরবাসীর জন্য। কারণ, এই স্বস্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোগান্তির বাস্তবতা। কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি বৃষ্টিতে দিনের শুরুটাই হয়ে উঠেছে ধীর ও অস্বস্তিকর।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দিনের শুরুতে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
পাশাপাশি কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এএইচ/এআরএম