নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
সকাল হতেই সূর্য যেন আগুন ঝরাতে শুরু করে। সূর্যের প্রখর তাপে চারপাশ হয়ে ওঠে তপ্ত। দুপুরের আগেই তা রূপ নেয় অসহনীয় দাবদাহে। এমন গরমে ঘরের ভেতরেও মিলছে না স্বস্তি। ফ্যানের বাতাসও যেন গরম হাওয়ায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বন্ধ হয়ে পড়ায় গরমের অস্বস্তি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে জনজীবনে।
এমন অবস্থায় মানুষ বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনলেও আপাতত স্বস্তির কোনো সুখবর দিতে পারছে না আবহাওয়া অফিস। সরকারি সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ-ছয় দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ মানুষকে আরও কিছুদিন এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে কাটাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও পাবনা অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজধানীতে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। ঢাকার বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এপ্রিল ও মে মাস হলো সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত সময়। ফলে এ সময় মৃদু থেকে মাঝারি, আবার কোথাও কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে।’
এদিকে বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার যে পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস দিয়েছে, তাতে দেশের ২৭ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বিরাজমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা
তাপপ্রবাহের এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ সকাল থেকে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা রয়েছে। তবে বৃষ্টির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। দিনভর আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ফলে রাজধানীজুড়ে গরমের অনুভূতি আগের মতোই অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমআর