ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
সারা দেশে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীর ইশ্বরদীতে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
ইশ্বরদীতে সর্বনিম্ন ৮.৪ ডিগ্রি
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় পাবনার ইশ্বরদীতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অনেকেই। একই সঙ্গে হিমালয়–কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়েও শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
আজ সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও দিনমজুররা।
ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকাকে ঢেকে রেখেছিল ঘন কুয়াশা। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে কুয়াশার ঘনত্ব ছিল বেশি। ঢাকায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কিছুটা কাটলেও শীতের অনুভূতি রয়ে গেছে।
একনজরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
আজ দেশের যেসব স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— পাবনা (ইশ্বরদী) ৮.৪ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গা ৯.২, কুষ্টিয়া (কুমারখালি) ৯.৪, দিনাজপুর ৯.৫, বগুড়া ৯.৮, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ৯.৮, যশোর ১০, রাজশাহী ১০, ফরিদপুর ১০.১ এবং টাঙ্গাইল ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
ঢাকা বিভাগে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৭ এবং সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ এবং গোপালগঞ্জে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি। কুমিল্লায় ১০ এবং ফেনীতে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। টেকনাফে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি।
সিলেট বিভাগে শীতের প্রকোপ বেশি। সিলেটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি।
রাজশাহী বিভাগে ঈশ্বরদীতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। সেখানে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং রাজশাহী শহরে ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগে কুয়াশার দাপট সবচেয়ে বেশি। দিনাজপুরে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগে যশোরে ১০, খুলনায় ১২ এবং বরিশালে ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। বিশেষ করে রাত ও ভোরে নদী অববাহিকা ও সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এমআই