তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২২, ১০:১৩ এএম
অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে নিজেকে স্বাবলম্বী করার জন্য অন্যদের দেখাদেখি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। কেউ আবার কি বিষয় শিখব, কীভাবে শিখব, কীভাবে শুরু করলে ভালো হবে ভাবতে ভাবতেই ফ্রিল্যান্সিং কাজ আর শুরু করতে পারেন না।
প্রথমত, মনে রাখতে হবে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য নিজের ভালো লাগার বিষয় নির্বাচন করতে হবে। এরপর সে বিষয়ে ঘরে বসে অনলাইন (যেমন ইউটিউব ও গুগল) বা ভালোমানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
নিজের যে বিষয় আগ্রহ নাই সে বিষয় কাজ করার মনোযোগ থাকে না। নিজের আগ্রহ বুঝে কাজ না করলে আপনি বেশি পরিশ্রম করতে পারবেন না, আর পরিশ্রম না করলে কোনো কাজ ভালোভাবে সম্পন্নও করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সফল হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা যায় না।
ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বর্তমানে বেশ কিছু পেশার বেশ চাহিদা রয়েছে বিশ্ববাজারে। আপনার আগ্রহ কাজের চাহিদা সুযোগ- সুবিধা এবং পছন্দ বুঝে বেছে নিতে পারেন পেশাগুলো।
যেসব বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়
ডিজিটাল মার্কেটিং
যারা সহজে কম সময়ে নিজের চিন্তাভাবনা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন, তারা বেছে নিতে পারেন ডিজিটাল মার্কেটিং পেশা।
নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা অনলাইন প্লাটফর্মে করে দেয়া হলো এটার মুল কাজ। আর এ কাজ এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে খুব ভাল আয় করা সম্ভাব। আর এই প্রচারণা চালানোর সকল কৌশল শেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
গ্রাফিক্স ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইন কী বা কাকে বলে? সোজাভাবে বললে, গ্রাফিক্স ডিজাইন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আমরা নিজের ধারণা, শিল্প এবং দক্ষতা ব্যবহার করে ছবি, শব্দ, পাঠ এবং ধারণার মিশ্রণ করে একটি আলাদা এবং নতুন ছবি তৈরি করি। তাই আপনি যদি সৃজনশীল হন বা নতুন কিছু ডিজাইন বা আঁকা আঁকি বা চিন্তা করতে পছন্দ করেন, তবে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
সৃজনশীল কাজে পারদর্শী এবং পরিশ্রমী ব্যক্তিরা সচরাচর এ পেশায় ভালো করেন। আপনি যদি নিজেকে সৃজনশীল এবং পরিশ্রমী মনে করেন, তবে প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পেশায় নিজেকে যুক্ত করতে পারেন।
বিশ্বব্যাপী এ কাজের চাহিদা অনেক বেশি থাকায় দক্ষ ব্যক্তিরা সহজেই এ পেশায় সফল হতে পারেন। এ কাজের জন্য ভাল মানের একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দরকার।
ওয়েব ডিজাইন
একটি ওয়েবসাইট সুন্দর ভাবে ডিজাইন বা তৈরি করার প্রক্রিয়াকেই ওয়েব ডিজাইন বলা হয়। ওয়েব ডিজাইন করার জন্য আপনার শিখতে হবে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা কোডিং।
তবে এগুলো শিখতে অনেকে ভয় পান। তাদের জন্য বলবো ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাইলেও কোডিং করতে ভালো লাগে না অনেকের। চিন্তার কিছু নেই, কোডিং না শিখেও সফল ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যায়। আর তাই ওয়েবসাইট তৈরির ইচ্ছা মনে থাকলে ওয়ার্ডপ্রেস শিখতে পারেন। বর্তমানে বিশ্বের শতকরা ৬০ ভাগ ওয়েবসাইটই ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মে তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজের অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। এ কাজের জন্য ও ভাল মানের একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দরকার।
ভিডিও সম্পাদনা
সুন্দর মুহূর্ত ও স্মৃতি সংরক্ষণে ভিডিও তৈরি করেন অনেকেই। কেউ আবার নিজের পছন্দের ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগের সাইট বা ইউটিউবে পোস্ট করেন নিয়মিত। আর তাই যারা শখের বসে ভিডিও তৈরি করতে পছন্দ করেন, তারা সহজেই ভিডিও সম্পাদনাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন। ভালোভাবে ভিডিও সম্পাদনা শিখতে পারলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার কাজ করার পাশাপাশি সরাসরি অর্থও আয় করা সম্ভব। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে এ কাজের অনেক চাহিদা রয়েছে। তাই আমরা এ কাজটা শিখেও ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করতে পারি। তবে এ কাজের জন্য ও ভালোমানের একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দরকার।
মোশন গ্রাফিকস
মোশন গ্রাফিকস বা ডিজিটাল অ্যানিমেশনের কাজ অনেকটা গ্রাফিক্স ডিজাইনের মতোই। তবে গ্রাফিক্স ডিজাইনে থাকে স্থির চিত্র এবং মোশন গ্রাফিকস স্থির চিত্রকে অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়। টেলিভিশনের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সিনেমার সূচনা দৃশ্য বা টাইটেল অ্যানিমেশনগুলো সবই মোশন গ্রাফিকসের মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে। ফলে এ পেশায় কাজের বেশ চাহিদা রয়েছে দেশ বিদেশে। আর তাই আপনি যদি সৃজনশীল হন, তবে মোশন গ্রাফিকস শিখতে পারেন। আপনার প্রচুর সৃজনশীল এবং ক্রিয়েটিভিটি থাকতে হবে। এ কাজ শিখেও আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেশে খুব ভাল ভাবে কাজ করে নিজেকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার তৈরি করতে পারেন।
অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট
যারা হিসাবরক্ষণের কাজ করতে পছন্দ করেন, তারা অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে অনলাইনে বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাজ ঘরে বসে করতে পারবেন। এ কাজের জন্য আপনাকে অবশ্যই কুইকবুক এবং জেরক্স বিষয়ে প্র্রশিক্ষণ নিতে হবে।
অ্যাপস ডেভেপমন্টে
মুঠোফোনের বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করেও অর্থ আয় করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে আগ্রহ থাকতে হবে কোডিং ও প্রোগ্রামিং বিষয়ে। অ্যাপ তৈরির কাজ করতে চাইলে জাভা প্রোগ্রামিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
গেমস তৈরি
এখনকার তরুণ প্রজন্মের বেশির ভাগই নিয়মিত গেমস খেলেন। নিজের ভালো লাগাকে কাজে লাগিয়ে গেমসও তৈরি করেছেন অনেকে। গেমস তৈরি করে আয় করতে চাইলে জাভা এবং পাইথন প্রোগ্রামিং শিখতে হবে। এ কাজ শেখা এবং চর্চা করার মানসিকতা থাকতে হবে।
পরিশেষে
ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্ত পেশা। ফ্রিল্যান্সিং এ সফল হতে হলে এক বা একাধিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন অন্তত ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগে পারদর্শিতা। আর তাই ফ্রিল্যান্সিং কাজে সফল হওয়ার জন্য দক্ষতা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাও ভালোভাবে শিখতে হবে। ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে তা হলেই এ সেক্টরে দ্রুত সফল হওয়া সম্ভব।
লেখক: ফ্রিল্যান্সার