তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
বর্তমানে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ—সব ক্ষেত্রেই কোটি কোটি মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)। তবে সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার নিয়ে একটি নতুন জল্পনা ও তথ্য সামনে এসেছে। সাইবার জালিয়াতি রোধ করতে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ‘সিম বাইনডিং’ (SIM Binding) সংক্রান্ত নতুন নিয়ম চালুর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মনে কৌতূহল ও কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
১. সিম বাইনডিং আসলে কী?
সহজ কথায়, সিম বাইনডিং হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা অনলাইন পরিষেবাকে সংশ্লিষ্ট মোবাইল সিম কার্ডের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বা শক্তভাবে যুক্ত রাখা হয়। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একবার মাত্র ওটিপি (OTP) দিয়ে নম্বর যাচাই করতে হয়। এরপর ফোনে সেই সিম কার্ডটি না থাকলেও ওয়াই-ফাই বা অন্য মাধ্যমের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ চালানো যায়। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যে নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেই সিম কার্ডটি ডিভাইসে সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে।

২. কেন এই ভাবনা?
সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণা, ভুয়া কাস্টমার কেয়ার নম্বর এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নানা ধরনের আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অনেক সময় অপরাধীরা ভুয়া পরিচয়ে সিম তুলে তা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে এবং পরবর্তী সময়ে সিমটি বন্ধ বা ফেলে দিয়েও শুধু ইন্টারনেটের সাহায্যে সেই অ্যাকাউন্ট সচল রেখে অপরাধ চালিয়ে যায়। এ ধরনের সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং তদন্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সিম বাইনডিং চালু হলে নির্দিষ্ট সিম ও অ্যাকাউন্টের মধ্যে কড়া সংযোগ তৈরি হবে, ফলে অপরাধপ্রবণতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৩. ব্যবহারকারীদের জন্য কী পরিবর্তন আসতে পারে?
ওয়াইফাই নির্ভর ব্যবহারে প্রভাব: যারা একটি ফোনে সিম রেখে অন্য কোনো ডিভাইস বা ট্যাবে হটস্পট কিংবা ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন, তাদের ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
নিষ্ক্রিয় নম্বর নিয়ে সতর্কতা: যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো পুরনো বা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই এমন মোবাইল নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

৪. করণীয় কী?
হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশিকা এখনও আসেনি। তবে সম্ভাব্য এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সচেতন ব্যবহারকারীদের কিছু প্রস্তুতি নেওয়া উচিত:
আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে সচল এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা নম্বরে রেজিস্টার্ড আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
আরও পড়ুন: প্লে স্টোরে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ: ৫ লাখেরও বেশি ডাউনলোড, আপনার ফোনে নেই তো
যদি নম্বর পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়, তবে হোয়াটসঅ্যাপের Settings > Account > Change number অপশন ব্যবহার করে আপনার বর্তমান সক্রিয় নম্বরে তা আপডেট করে নিতে পারেন। এতে চ্যাট হিস্ট্রি ও তথ্য সুরক্ষিত থাকবে। তবে পরিবর্তনের আগে অবশ্যই ডেটা ব্যাকআপ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে টেলিযোগাযোগ দফতরের সরকারি ঘোষণা এবং হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল আপডেটগুলোর ওপর নজর রাখা উচিত।
এজেড