Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

নতুন ফোনেও ২৬ বছরের পুরনো প্রযুক্তি! টাইপ-সি পোর্টের আসল সত্য জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ এএম

একটি নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় অধিকাংশ মানুষই ক্যামেরা, প্রসেসর কিংবা ব্যাটারির সক্ষমতার দিকে নজর দেন। ফোনের চার্জিং ও ডেটা ট্রান্সফার পোর্টটি যদি টাইপ-সি হয়, তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ধরে নেন যে এটি নিশ্চয়ই একদম আধুনিক প্রযুক্তির। তবে ৯০ শতাংশেরও বেশি ব্যবহারকারীই অগোচরে থেকে যান এক গোপন তথ্যের—আপনার চকচকে নতুন ফোনটিতেও হয়তো চলছে ২৬ বছরের পুরনো ধীরগতির প্রযুক্তি!

প্রকৃতপক্ষে 'টাইপ-সি' হলো একটি সকেটের বাইরের নকশা বা শেপ মাত্র। পোর্টটির ভেতরের প্রযুক্তিতে আজও ব্যবহৃত হচ্ছে বহু পুরনো মেকানিজম। অনেক নামী ব্র্যান্ডের নতুন মডেলেও ইউএসবি ২.০ প্রোটোকল যুক্ত টাইপ-সি পোর্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউএসবি ২.০ প্রযুক্তি প্রথম বাজারে এসেছিল ২০০০ সালের আগস্ট মাসে। অর্থাৎ দুই দশকেরও বেশি সময়ের পুরনো এই প্রযুক্তির ওপর ভর করেই বাজারে বিকোচ্ছে আধুনিক স্মার্টফোন। এমনকি আইফোন ১৭ এবং আইফোন এয়ারের মতো মডেলেও ইউএসবি ২.০ মানের ধীরগতির টাইপ-সি পোর্ট দেখা যাচ্ছে।

port

যদি মনে করেন টাইপ-সি পোর্ট কেবল দ্রুত চার্জিংয়ের জন্যই দেওয়া হয়, তবে ভুল ভাবছেন। এর অন্যতম প্রধান কাজ হলো ডেটা ট্রান্সফার করা। কিন্তু ইউএসবি ২.০ ভিত্তিক টাইপ-সি পোর্টে সর্বোচ্চ ৪৮০ এমবিপিএস পর্যন্ত স্পিড পাওয়া যায়। এর ফলে ফোন থেকে বড় মাপের কোনো ফাইল অন্য ডিভাইসে পাঠাতে গেলে কয়েক মিনিটের কাজ সম্পন্ন হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। এছাড়া এই ধীরগতির পোর্টের মাধ্যমে মনিটরে ডিসপ্লে আউটপুট পাওয়া যায় না, যার কারণে ফোনকে এক্সটার্নাল স্ক্রিনের সঙ্গে যুক্ত করে কম্পিউটারের মতো ব্যবহার করার কোনো সুযোগ থাকে না।

প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এই কৌশল অবলীলায় চালিয়ে যেতে পারছে কেবল সচেতনতার অভাবে। অতীতে ইউএসবি-এ পোর্টে নীল রঙের প্রোটোকল দেখে নতুন ও দ্রুতগতির প্রযুক্তি চেনা যেত। তবে টাইপ-সি পোর্টের নকশায় এমন কোনো কালার কোডিং বা চিহ্ন থাকে না বলে সাধারণ ক্রেতারা পোর্টের মান বুঝতে পারেন না। ফলে কোম্পানিগুলোও নতুন ডিভাইসে পুরনো ও কম খরচের মাদারবোর্ড প্রযুক্তি অনায়াসে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইলেকট্রিক প্লাগের পিনে কেন কাটা দাগ?

নতুন কোনো ফোন বা ল্যাপটপ কেনার সময় পোর্টের ডেটা ট্রান্সফার স্পিড এবং ডিসপ্লে আউটপুট সাপোর্ট যাচাই করে নেওয়া জরুরি। অন্তত ইউএসবি ৩.২ বা ইউএসবি ৪ সমর্থিত ডিভাইস কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যেখানে ১০ জিবিপিএস পর্যন্ত দ্রুতগতি পাওয়া সম্ভব। তবে ফোন থেকে বড় ফাইল ট্রান্সফার বা এক্সটার্নাল ডিসপ্লে ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে এই ধীরগতির টাইপ-সি পোর্টের ফোন কিনে কিছু টাকা সাশ্রয় করা যেতে পারে। অন্যথায় ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে ইউএসবি ৩.০ বা পরবর্তী সংস্করণের পোর্ট সমৃদ্ধ ফোন বেছে নেওয়াই শ্রেয়।

এজেড