তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ এএম
স্মার্টফোন প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছরই বাজারে আসছে নতুন নতুন মডেল। নতুন ক্যামেরা সিস্টেম, আকর্ষণীয় ডিজাইন বা হার্ডওয়্যারের চমকপ্রদ ফিচার দেখে অনেকেরই পুরোনো ফোন বদলে নতুন মডেল কেনার ইচ্ছা জাগে। তবে প্রশ্ন হলো—প্রতি বছর কি সত্যিই নতুন ফোন কেনা জরুরি? নাকি এটি শুধুই প্রয়োজনের অতিরিক্ত আবেগ?
এক সময় দুই-তিন বছর পর ফোন পরিবর্তন করলে প্রযুক্তির পার্থক্য চোখে পড়ার মতো হতো। স্ক্রিন ভালো হওয়া, ক্যামেরার উন্নতি কিংবা প্রসেসরের গতি বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বদলে যেত। কিন্তু বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন একটি পরিণত পণ্য। প্রতি ১২ মাসে কাচের তৈরি এই ডিভাইসে নতুন কোনো বিপ্লব ঘটানো কঠিন। ফলে এখন অনেক ফ্ল্যাগশিপ ফোনের পরপর দুই প্রজন্মকে পাশাপাশি রাখলে দূর থেকে তা আলাদা করা মুশকিল হয়ে পড়ে।
আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রসেসর ব্যবহার করা হয়, যার বেশিরভাগ ক্ষমতারই ব্যবহার করেন না সাধারণ ব্যবহারকারীরা। দৈনন্দিন চ্যাট, ইমেল, ব্রাউজিং বা সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্য দুই-তিন বছর আগের ফোনও অনায়াসে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি, বর্তমানের প্রায় প্রতিটি বড় ব্র্যান্ড দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেট দিচ্ছে। গুগল এবং স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সাত বছরের সিকিউরিটি ও অপারেটিং সিস্টেম আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ফলে পুরোনো ফোন হলেও দীর্ঘ সময় আধুনিক সফটওয়্যার সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

অনেকের কাছেই উন্নত ক্যামেরা বা ভালো ব্যাটারি লাইফ ফোন বদলানোর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যাটারি পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে আস্ত ফোন না বদলিয়ে ব্যাটারি পরিবর্তন করলেই অনেক সময় পুরনো ফোনটি নতুনদের মতো সার্ভিস দেয়। অন্যদিকে, স্মার্টফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ব্যবহার বাড়লেও ব্যবহারকারীকে আগে দেখতে হবে সেই এআই ফিচারগুলো দৈনন্দিন কাজে কতটা বাস্তবসম্মত ও উপকারী ভূমিকা রাখছে।
নতুন ফোন কেনার আগে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা উচিত—যেমন বর্তমান ফোনটি আসলেই বিকল হয়ে গেছে কি না, নতুন ফোনে থাকা ফিচারগুলো দৈনন্দিন কাজে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনবে কি না, কিংবা ব্যাটারি বা যন্ত্রাংশ বদলানোর মাধ্যমে পুরনো ফোনটি ঠিকঠাক করা সম্ভব কি না।
আরও পড়ুন: নকিয়ার মূল প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবাল নতুন স্মার্টফোন আনছে
প্রযুক্তি যদি শখ হয় এবং সামর্থ্য থাকে, তবে গ্যাজেট কেনা দোষের কিছু নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ঘন ঘন ফোন বদলানোর চেয়ে অন্তত দুই বা তিন প্রজন্ম বাদ দিয়ে ফোন আপগ্রেড করলে ছোট ছোট উন্নতিগুলো একসঙ্গে জমে বাস্তব পার্থক্য তৈরি করে, যা নতুন ফোন কেনার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
এজেড