তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপনার কাছে কি দুইটি আইফোন রয়েছে এবং দুইটিতেই একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে চান? তাহলে অ্যাপল আপনার জন্য একটি অত্যন্ত কাজের ফিচার নিয়ে এসেছে। আইওএস ২৭-এ আসা আইফোন হ্যান্ডঅফ আপনাকে একই মোবাইল নম্বর দুটি আইফোনে ব্যবহার করার সুবিধা দেয়। অর্থাৎ, বারবার সিম বা ই-সিম বদলানো এবং দুইটি ফোনের জন্য আলাদা মোবাইল কানেকশন নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।
কী এই আইফোন হ্যান্ডঅফ?
আইফোন হ্যান্ডঅফ এমন একটি ফিচার, যার মাধ্যমে দুইটি আইফোনকে একই মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এরপর দুইটি ডিভাইস থেকেই ওই নম্বরে কল এবং মেসেজ করা যাবে। অ্যাপল বিশেষ করে তাদের জন্য এই ফিচারটি তৈরি করেছে, যারা সময়ে সময়ে দুইটি আইফোনের মধ্যে পরিবর্তন করেন। ফিচারটি সেট করার পর যে আইফোনটি ব্যবহার করতে চান, সেটি আনলক করলেই যথেষ্ট। ফোনটি নিজে থেকেই হ্যান্ডঅফের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে যাবে এবং ব্যবহারকারী একই নম্বর থেকে কল বা মেসেজ করতে পারবেন।
কীভাবে কাজ করে এই ফিচার?
আইফোন হ্যান্ডঅফ ব্যবহার করার জন্য দুইটি আইফোনেই আইওএস ২৭ বা তার পরবর্তী সংস্করণ থাকা জরুরি। দুইটি ফোন একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে এবং আইক্লাউড, ফেসটাইম ও আইমেসেজের জন্য একই অ্যাপল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করা থাকতে হবে। সেটআপের সময় একটি আইফোনকে প্রাইমারি এবং অন্যটিকে সেকেন্ডারি ডিভাইস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। প্রাইমারি আইফোনে মূল ই-সিম এবং কেরিয়ার সেটিংস থাকে। তবে সমর্থনকারী কেরিয়ারের ক্ষেত্রে দুইটি ফোনের নিজস্ব ই-সিমও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কীভাবে আইফোন হ্যান্ডঅফ সেটআপ করবেন?
দুটি আইফোন পাশাপাশি রেখে যেকোনো একটি আনলক করুন। এরপর সেটিংস থেকে সেলুলারে যান এবং সেট আপ সেলুলার, অ্যাড ই-সিম অথবা আইফোন হ্যান্ডঅফ অপশনটি বেছে নিন। এবার ইউজ নম্বর অন দিস আইফোন অ্যান্ড অ্যানাদারে ট্যাপ করে স্ক্রিনে দেওয়া নির্দেশগুলো অনুসরণ করতে হবে। এরপর একটি ফোনকে প্রধান অর্থাৎ প্রাইমারি আইফোন হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে। ফিচারটি সক্রিয় হওয়ার পর ডায়নামিক আইল্যান্ডের কাছে একটি ছোট নোটিফিকেশনও দেখা যাবে।

এখন কোন কোন টেলিকম অপারেটরে কাজ করবে?
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আইফোন হ্যান্ডঅফ শুধুমাত্র ফোনে থাকা একটি ফিচার নয়। এর জন্য মোবাইল কেরিয়ারের সমর্থনও প্রয়োজন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত আমেরিকায় টি-মোবাইল এবং জার্মানিতে টেলিকম এই ফিচারের জন্য সমর্থন নিশ্চিত করেছে। আমেরিকায় টি-মোবাইল এর জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত পাঁচ ডলার চার্জ করছে। ভারত ও বাংলাদেশের এই ফিচারের জন্য কেরিয়ার সাপোর্টের সুবিধা রয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
কোন ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যকর এই ফিচার?
আপনার জেনে রাখা দরকার, দুটি আইফোন ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকদের জন্য এই ফিচারটি বেশ সুবিধাজনক হতে পারে। যেমন, কেউ নতুন আইফোন কেনার পর ভ্রমণের সময় পুরোনো ফোনটি ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে অফিস এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আলাদা আইফোন রাখা ব্যবহারকারীরাও একই নম্বর দুটি ডিভাইসে ব্যবহার করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: আইফোন ডুও-কে টেক্কা দিতে শাওমির নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন
তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন, এর ফলে অ্যাপল ওয়াচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য আইফোনে পরিবর্তন হয় না। এছাড়া আইডি এবং পাসের মতো কিছু ওয়ালেট আইটেম দুইটি ডিভাইসেই উপলব্ধ নাও হতে পারে।
এজেড