তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
এখন আর শপিং মানেই আগে থেকে একটা তালিকা তৈরি করে জিনিস খুঁজতে বসা নয়। কখনো একটা ট্রেন্ড, কখনো কোনো ভিডিও, রিভিউ কিংবা হঠাৎ চোখে পড়া কোনো পণ্য থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে কেনাকাটার গল্প। মিলেনিয়াল বা ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম যখন বড় হয়েছে, তখন ইন্টারনেট ও অনলাইন কেনাকাটা ছিল নতুন এক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন জি প্রজন্মের বেড়ে ওঠার সময় ডিজিটাল প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন দুনিয়া ছিল দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। ফলে দুই প্রজন্মের কেনাকাটার অভ্যাসেও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট পার্থক্য।
এই পার্থক্যটাই বদলে দিচ্ছে মানুষ কী কিনছে এবং কেন কিনছে, তার ধরন। মিলেনিয়ালরা সাধারণত প্রয়োজনকে সামনে রেখে অনলাইনে কেনাকাটা করে। দাম মিলিয়ে দেখে, রিভিউ দেখে এবং নিজের বাজেট ও জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই পণ্য বেছে নেয়। কিন্তু জেন-জিদের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু আলাদা। তারা ট্রেন্ডের মাধ্যমে পরিচিত হয়, তারা কোন পণ্য কিনবে কি না। তারা অল্প পরিমাণে কিন্তু ঘন ঘন কেনাকাটার পাশাপাশি রেটিং, রিভিউ এবং সেলার ট্রান্সপারেন্সি তাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর তাদের পছন্দের পেছনে বড় প্রভাব রাখে অনলাইনে দেখা ট্রেন্ড, স্টাইল ও কালচার।
এই পরিবর্তনটা ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও বেশ স্পষ্ট। দারাজ বাংলাদেশের ‘জেন জি ফ্যাশন ডিএনএ রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। জুন থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পাঁচটি কালচারাল প্রভাবের ওপর ৪৭টি কিওয়ার্ড বিশ্লেষণ করে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, কিওয়ার্ডের ৩২ শতাংশই ছিল দৈনন্দিন ফ্যাশন নিয়ে। আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের স্টাইলগুলোই ছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর মধ্যে পুরুষদের ব্যাগী প্যান্টে সবচেয়ে বেশি, ১৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। এরপর রয়েছে ড্রপ-শোল্ডার স্টাইল ৮১ শতাংশ এবং ব্যাগী জিন্স ৪৭ শতাংশ।
তবে জেন-জিদের কাছে ফ্যাশন শুধু আরাম বা পোশাকের বিষয় নয়। তারা কী পরছে, সেটাও অনেক সময় তাদের পরিচয় ও পছন্দ প্রকাশের একটি উপায়। যেমন- ওয়াই২কে সানগ্লাস। পুরনো স্টাইল নতুন ট্রেন্ড হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, অ্যানিমে টি-শার্টের চাহিদা বেড়েছে ২৭ শতাংশ এবং বিটিএস লাইট স্টিকের ২১ শতাংশ। তবে লাইট স্টিকের চাহিদা বাড়লেও, বিটিএস টি-শার্টের চাহিদা ছিল স্থির। এতে বোঝা যায়, ট্রেন্ড বদলালেও পছন্দের ফ্যানডমের সঙ্গে যুক্ত কিছু পণ্যের চাহিদা নিয়মিতভাবেই থাকতে পারে।
এই পরিবর্তন শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ নেই। মহিলাদের স্নিকারের বিক্রি ৬০%, পুরুষদের স্নিকারের বিক্রি ৩৯% এবং ক্রোকসের বিক্রি ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। জর্ডান ৪ একটি নতুন জুতার ট্রেন্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, অন্যদিকে মেয়েদের টোট ব্যাগের বিক্রি ১৭% বেড়েছে, যা দেখায় যে কীভাবে ব্যবহারিক, দৈনন্দিন পণ্যও ব্যক্তিগত স্টাইলের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
দারাজ বাংলাদেশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার কামরুল হাসান বলেন, “জেন জি-এর একটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো, তারা পুরোনো ট্রেন্ডগুলোকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনে। তাদের কাছে কেনাকাটা শুধু কিছু কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের ভাইব, ট্রেন্ড এবং ব্যক্তিগত স্টাইলের সাথেও জড়িত। এই বিষয়টি মাথায় রেখে, আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্মে প্রাসঙ্গিক ট্রেন্ডগুলো নিয়ে আসার চেষ্টা করি।”
তবে জেন জির সঙ্গে ডিজিটাল কমার্সের সম্পর্ক শুধু কেনাকাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ বরং তাদের দক্ষতা অর্জন, ক্যারিয়ার গড়া এবং আয়ের সুযোগ তৈরিতেও সাহায্য করছে। দারাজের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে ৫৩,০০০-এর বেশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারস ও ব্র্যান্ড যুক্ত রয়েছে। প্রতি মাসে ১০,০০০-এর বেশি অ্যাফিলিয়েট অ্যাক্টিভ ভাবে কাজ করছেন। ফলে পণ্য খুঁজে বের করার পাশাপাশি, পণ্য প্রচার করাও এখন আয়ের একটি সুযোগ গড়ে তুলেছে।
জেন জির কেনাকাটার আচরণের পেছনে হয়তো এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। তারা শুধু ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে না, বরং এই অর্থনীতির মধ্যেই বেড়ে উঠছে। যে পর্দায় তারা বিনোদন ও তথ্য খুঁজে নেয়, সেই একই পর্দা তাদের পোশাকের পছন্দ, কেনাকাটা, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ক্রমেই কাজ ও আয়ের পথও প্রভাবিত করছে। এই প্রজন্মের কাছে তাই অনলাইন কেনাকাটার ঝুড়ি কেবল কেনাকাটার শেষ ধাপ নয়, বরং আরও বড় একটি ডিজিটাল অভিজ্ঞতার অংশ।
বাংলাদেশে দারাজের ১২তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে চলছে মেগা ৯.৯ ক্যাম্পেইন। ক্যাম্পেইনের লেটেস্ট ট্রেন্ডিং পণ্য সেরা দামে কিনতে ভিজিট করুন দারাজ ৯.৯ ক্যাম্পেইন পেজ।
এজেড