জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১৮ থেকে ২৩ জুলাই এবং ৫ আগস্ট সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও জনজীবনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ থেকে ২৩ জুলাই এবং ৫ আগস্ট সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। এতে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-নির্ভর ব্যবসা পরিচালনাকারী বিপুলসংখ্যক উদ্যোক্তা ও নারী কর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তিনি জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ই-কমার্স, অনলাইন টিকিটিং, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট, অনলাইন ব্যাংকিং এবং মোবাইল আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেনেও।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত এক কোটির বেশি বাংলাদেশিও ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওই সময়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্দেশ পাওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হয় বিভিন্ন স্তরে। সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ও একাধিক আইটিসি অপারেটর থেকে শুরু করে প্রায় ৩০টি আইআইজি, মোবাইল অপারেটর এবং সহস্রাধিক আইএসপির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করা হয়।
বিভিন্ন স্তরে সহস্রাধিক অপারেটরের ফাঁক গলে কোনো কোনো ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সংযোগ সচল ছিল কি না, তা নিরূপণ করা দুরূহ ছিল বলেও জানান তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী।
টিএই/এএইচ