তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা করছেন? ১, ২ ও ৩ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমের ব্যবহার, আনুমানিক খরচ, অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড ও হাইব্রিড সিস্টেম এবং প্রযোজ্য সরকারি ভর্তুকির হিসাব জানুন।
বিদ্যুতের খরচ কমাতে এখন অনেকেই বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু আপনার বাড়ির জন্য কত কিলোওয়াটের সোলার প্রয়োজন, তা নির্ভর করে দৈনিক বিদ্যুতের ব্যবহার এবং একসঙ্গে কতগুলো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো হচ্ছে তার ওপর। সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে ১, ২ ও ৩ কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেমই বেশি দেখা যায়। সিস্টেমের ধরন অনুযায়ী খরচও আলাদা হয়।
১ কিলোওয়াট সোলার ছোট পরিবারের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এতে কয়েকটি ফ্যান, এলইডি আলো, টিভি, রাউটার, মোবাইল চার্জার ইত্যাদি চালানো সম্ভব। অন-গ্রিড ১ কিলোওয়াট সিস্টেম বসাতে আনুমানিক ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে সরকারি ভর্তুকি প্রযোজ্য হলে খরচ কমে যেতে পারে। ব্যাটারি-সহ অফ-গ্রিড বা হাইব্রিড সিস্টেম নিলে খরচ আরও বেশি হতে পারে।
_20260905_093017700.jpeg)
২ কিলোওয়াট সোলার মাঝারি পরিবারের জন্য বেশ কার্যকর। ফ্যান, আলো, ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটারসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের একাধিক যন্ত্র চালানোর ক্ষেত্রে এটি ভালো বিকল্প। অন-গ্রিড ২ কিলোওয়াট সিস্টেমের আনুমানিক খরচ ১.২০ লাখ থেকে ১.৬০ লাখ টাকা হতে পারে। তবে ইনভার্টারের মান, প্যানেলের ব্র্যান্ড, ইনস্টলেশন এবং অন্যান্য সরঞ্জামের উপর মোট দাম নির্ভর করবে।
৩ কিলোওয়াট সোলার তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা পরিবারের জন্য উপযোগী। আলো, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, জল পাম্পের মতো একাধিক যন্ত্র চালানোর জন্য এটি ব্যবহার করা যায়। অন-গ্রিড ৩ কিলোওয়াট সিস্টেম বসাতে আনুমানিক ১.৭০ লাখ থেকে ২.২০ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। এসি, গিজার বা ইন্ডাকশন কুকারের মতো বেশি বিদ্যুৎ খরচের যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করলে অবশ্যই মোট লোড হিসাব করে সিস্টেমের ক্ষমতা নির্বাচন করতে হবে।
আরও পড়ুন: নেট মিটারিং কী? কীভাবে সোলার প্যানেল থেকে আয় করবেন
তবে মনে রাখতে হবে, উপরের হিসাবগুলো আনুমানিক বাজারদর। অন-গ্রিড সিস্টেমে সাধারণত ব্যাটারি থাকে না, তাই খরচ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে অফ-গ্রিড বা হাইব্রিড সিস্টেমে ব্যাটারি প্রয়োজন হওয়ায় প্রাথমিক খরচ অনেকটাই বাড়তে পারে।
তাই সোলার বসানোর আগে গত কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিল দেখে আপনার দৈনিক গড় বিদ্যুৎ খরচ হিসাব করা সবচেয়ে জরুরি। কম ব্যবহার হলে ১ কিলোওয়াট, মাঝারি ব্যবহারে ২ কিলোওয়াট এবং তুলনামূলক বেশি ব্যবহারে ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি সিস্টেম বিবেচনা করা যেতে পারে।
এজেড