তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
স্মার্টফোন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও ব্যক্তিকে ফোন করা থেকে শুরু করে ছবি তোলা, অনলাইন ট্রানজেকশন করা, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, অফিসের মিটিং—সব কাজই এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ফোনের নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। আপনি সামান্যও অসতর্ক হলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি সেটিংসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
আপনার ফোনে দীর্ঘদিন ধরে কোনও সিকিউরিটি আপডেট না এসে থাকলে, স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থা ওই মডেলের জন্য আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। পাশাপাশি যে কোনও অ্যাপ বিশ্বস্ত সোর্স থেকে ডাউনলোড করুন। Google Play Store-এর বাইরে থেকে APK ফাইল ডাউনলোড করা ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে মালওয়্যার বা অন্য কোনও ক্ষতিকর প্রোগ্রামের ঝুঁকি থাকতে পারে।
অ্যাপ ইনস্টল করার আগে তার ডেভেলপার, রিভিউ এবং ডাউনলোডসের সংখ্যাও পরীক্ষা করুন। কোনও অপরিচিত অ্যাপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পারমিশন চাইলে সতর্ক হন। অনেক সময় আমরা না পড়েই কোনও অ্যাপকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, লোকেশন, কনট্যাক্টস বা ফাইলের অ্যাক্সেস দিয়ে দিই। কিন্তু এটি আপনার প্রাইভেসির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সেটিংসে গিয়ে অ্যাপস এবং পারমিশনস সেকশনে দেখুন, কোন অ্যাপ কোন তথ্যের অ্যাক্সেস নিচ্ছে। যে পারমিশনের প্রয়োজন নেই, সেটি বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।

ফোনে শুধু সাধারণ পিন বা সহজ প্যাটার্ন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। শক্তিশালী পিন বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং ফোনে এই সুবিধা থাকলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলকের মতো ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি লক স্ক্রিনে আসা নোটিফিকেশনে ব্যক্তিগত তথ্য লুকিয়ে রাখার অপশন বেছে নেওয়াও ভালো। এর ফলে ফোন লক থাকা অবস্থায় অন্য কোনও ব্যক্তি আপনার ওটিপি বা ব্যক্তিগত মেসেজ পড়তে পারবেন না।
অ্যানড্রয়েডে থাকা গুগল প্লে প্রটেক্ট আপনার ফোনে থাকা অ্যাপ স্ক্যান করে ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তাই এটি বন্ধ করবেন না। সময়ে সময়ে প্লে স্টোরের সিকিউরিটি সেটিংসে গিয়ে এটি অ্যাক্টিভ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল ডেটা সুরক্ষায় কার্যকরী ‘৩-২-১-১-০’ ব্যাকআপ রুল: কীভাবে কাজ করে
পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক কাজে লাগে। তবে অপরিচিত নেটওয়ার্কে সংবেদনশীল কাজ করা এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে ব্যাংকিং, ইউপিআই বা অন্য কোনও অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কাজ করার সময় মোবাইল ডেটা অথবা বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন।
শুধু পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর করে গুগল, ইমেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখবেন না। যেখানে সম্ভব, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন অথবা পাসকি-র মতো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ফিচার চালু করুন। এর ফলে পাসওয়ার্ড কারও হাতে চলে গেলেও আপনার অ্যাকাউন্ট সহজে ঝুঁকির মুখে পড়বে না।
এজেড