তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
স্মার্টফোন এখন শুধু কল করার মাধ্যমই নয়, বরং ব্যাংকিং, ডিজিটাল লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং নানা ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ ফোন চুরি বা হারিয়ে গেলে মানুষ ভীষণ চিন্তায় পড়ে যান। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ সরকারি সহায়ক প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে এই সমস্যার যেমন কার্যকর মোকাবিলা করা সম্ভব, তেমনি বহু ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ফোন আবার উদ্ধার করে মালিকের হাতে ফিরিয়ে আনাও সম্ভব হয়। ফোন চুরি যাওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও সরকারি সেবার সাহায্য নিলে ডিভাইসটি সুরক্ষিত রাখা এবং তা উদ্ধারের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
স্মার্টফোন চুরি হওয়ার পর প্রথমেই যে কাজটি করবেন
স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে প্রথমেই কিছু অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সবার আগে আপনার ব্যাংকিং অ্যাপ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর পাসওয়ার্ড দ্রুত বদল করে ফেলুন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি অবিলম্বে অবহিত করুন। এর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় থানায় গিয়ে ফোন চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার একটি লিখিত সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ জমা দিন।
আরও পড়ুন: আপনার ফোনের ক্যামেরা হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে কিনা যেভাবে বুঝবেন
থানায় অভিযোগ করার সময় বা অনলাইনে আবেদন করার জন্য মোবাইলের আইএমইআই নম্বর এবং ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত জরুরিভাবে প্রয়োজন পড়ে। প্রতিটি মোবাইলেরই এই অনন্য শনাক্তকরণ নম্বর থাকে, যা নেটওয়ার্কে ডিভাইসটিকে আলাদাভাবে চিনতে সাহায্য করে। ফোন হারিয়ে গেলেও এই নম্বরটি সাধারণত ফোনের মূল প্যাকেজিং বাক্স, ক্রয়ের রসিদ বা পুরনো কোনো ডিভাইস রেকর্ডে সহজে পেয়ে যাবেন। ডুয়াল সিমের ফোনে দুটি আইএমইআই নম্বর থাকে, তাই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই উভয় নম্বর নিরাপদ স্থানে লিখে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

চুরি হওয়া ফোনের নেটওয়ার্ক ব্লক করুন
ফোন চুরির পর সরকারি বা অনুমোদিত পোর্টালের বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিভাইসটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা ব্লক করার আবেদন করতে হয়। এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় টেলিকম ব্যবস্থার বিশেষ রেজিস্টার বা সিইআইআর সিস্টেমের সহায়তা নেওয়া হয়। পুলিশের করা ডায়েরির কপি ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে চুরি যাওয়া ফোনের আইএমইআই নম্বরটি নেটওয়ার্কে ব্লক করে দিলে সেটি আর কোনোভাবেই সচল রাখা যায় না। এর ফলে চোর বা অন্য কেউ ওই ফোনে নতুন কোনো সিম কার্ড প্রবেশ করালেও তা কোনো মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল করতে পারবে না বা ব্যবহার করতে পারবে না।
চুরি হওয়া ফোন আদৌ ফেরত পাওয়া সম্ভব?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এভাবে ব্লক করার পর ফোন আবার কীভাবে ফেরত পাওয়া সম্ভব। আসলে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা পোর্টালগুলো নিজে থেকে ফোন খুঁজে এনে বাড়িতে পৌঁছে দেয় না, বরং ফোন শনাক্ত করা ও তা উদ্ধারের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ ভূমিকা থাকে। ব্লক করা সেই ফোনে কেউ যখনই নতুন সিম ভরে নেটওয়ার্ক সচল করার চেষ্টা করে, তখন সেই সিগন্যাল ও ডিভাইসের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তদন্তকারী সংস্থা বা পুলিশ খুব সহজেই সেটির অবস্থান বা লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে। পরবর্তীতে পুলিশ সফলভাবে ফোনটি উদ্ধার করার পর ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমেই আবার ডিভাইসটি আনব্লক করার আবেদন করে তা স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
এজেড