নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
কুমিল্লা ডেটা সেন্টারে ৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডেটা সেন্টারের অব্যবহৃত ২ হাজার ৫০০ বর্গফুট ছাদজুড়ে এ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এ স্থাপনা থেকে বছরে প্রায় ৮৫ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা সবুজ জ্বালানি উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, সোলার ইরেডিয়েশন টাইম অর্থাৎ দিনের বেলা যখন পর্যাপ্ত সূর্যের আলো থাকে, তখন সিস্টেমটি গ্রিডের (সরকারি বিদ্যুৎ লাইন) প্রায় ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে। ফলে বছরে প্রায় ৫২ টন পর্যন্ত কার্বন নির্গমন হ্রাস পাবে। এনার্জি ব্যয় বাবদ সাশ্রয় হবে ১২ লাখ টাকা।
এ উদ্যোগ বাংলালিংকের ইএসজি (এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স) লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি লোডশেডিং কিংবা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম সচল রাখতেও সহায়তা করবে।
এর আগে গত বছর গাজীপুর ডেটা সেন্টারে ৮০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করে বাংলালিংক। এর মাধ্যমে দেশের প্রথম মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর হিসেবে ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু করে অপারেটরটি।
এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা ডেটা সেন্টারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে বাংলালিংক। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল প্রতিষ্ঠানটি।
এ উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাংলালিংকের চিফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফরমেশন অফিসার (সিটিআইও) হুসেইন তুর্কার বলেন, ‘একটি টেকসই ও স্থিতিশীল ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার যাত্রায় এ উদ্যোগ একটি বড় পদক্ষেপ। গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয়ও সাশ্রয় করতে পারছি। ফলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের নেটওয়ার্ক আরও টেকসই ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে টেকসই পরিবেশ শুধুমাত্র একটি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।’
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে নিজেদের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলছে বাংলালিংক। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনা ও নেটওয়ার্কে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করছে অপারেটরটি।
আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও জ্বালানি সাশ্রয়ী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পথে এটি একটি মাইলফলক প্রকল্প। একইসঙ্গে এ উদ্যোগ বাংলালিংকের বৃহত্তর ইএসজি (এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এএইচ