ফিচার ডেস্ক
২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বাংলাদেশের মোটরসাইকেল প্রেমীদের জন্য অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এল বিশ্বের বৃহত্তম মোটরসাইকেল ও স্কুটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিরো মোটোকর্প। দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে জনপ্রিয় এক্সপালস সিরিজের দুটি নতুন মডেল—‘এক্সপালস ২০০ ৪ভি’ এবং ‘এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো’। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ১২ বছরের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হলো।
নতুন দুই মডেল বাজারে আনার মাধ্যমে বাংলাদেশে অন-রোড ও অফ-রোড অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল সেগমেন্টে নিজেদের পোর্টফোলিও আরও প্রসারিত করল হিরো মোটোকর্প। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক্সপালস প্ল্যাটফর্ম এখন বাংলাদেশের রাইডারদের জন্যেও উন্মুক্ত করল প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে হিরো মোটোকর্পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হর্ষবর্ধন চিতিয়ালে বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের কাছে শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার নয়; এটি আমাদের বৈশ্বিক পরিচয় ও উৎপাদন কার্যক্রমেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত ১২ ধরে ‘হিরোর দেশ বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে আমরা এ দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছি। নিলয় মোটরসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি, সম্প্রসারিত সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়ে আমরা এখানে একটি শক্তিশালী স্থানীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশে শুধু পণ্য নিয়ে আসছি না; এ দেশেই উৎপাদন করছি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছি এবং দেশের সঙ্গে একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের রাইডারদের আগ্রহ এখন দিনদিন যাতায়াতের পাশাপাশি লাইফস্টাইল, নতুন জায়গা ঘুরে দেখা ও স্বাধীনভাবে রাইডিংয়ের দিকেও বাড়ছে। এক্সপালস ২০০ সিরিজ বাজারে আনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সড়কের উপযোগী বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে দেশে অ্যাডভেঞ্চার মোটরসাইকেল সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তরুণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় রাইডারদের জন্য তৈরি এক্সপালস ২০০ সিরিজে দুর্গম পথে চলার সক্ষমতা, দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধা এবং আধুনিক রাইডিং প্রযুক্তির সমন্বয় রয়েছে। এটি তৈরিতে হিরো মোটোকর্পের ঢাকার অ্যাডভেঞ্চার দর্শন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে।
দুটি মোটরসাইটেলেই রয়েছে ১৯১.৬ সিসি, ৪-ভালভ, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, অয়েল-কুলড ইঞ্জিন, যা ৮,৫০০ আরপিএমে ১৮.৯ বিএইচপি পাওয়ার এবং ৬,৫০০ আরপিএমে ১৭.৩৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৫-স্পিড ট্রানসমিশন।
উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে তিনটি এবিএস মোড—রোড, অফ-রোড ও র্যালি; ডুয়াল-পারপাস টায়ার; অ্যাডজাস্টেবল মনো সাসপেনশন; এলসিডি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার; ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি; টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন; ক্লাস-ডি এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প ও এলইডি ডিআরএল; ব্যাশ প্লেট; হ্যান্ডগার্ড এবং বাকি হুকসহ লাগেজ প্লেট।
এক্সপালস ২০০ ৪ভি: এটি প্রতিদিনের যাতায়াত ও হালকা ট্রেইল রাইডিংয়ের জন্য তৈরি। এতে রয়েছে ৮২৫ মিমি সিট হাইট, ২২০ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং ১৯০ মিমি ফ্রন্ট সাসপেনশন ট্রাভেল। এটি মেটালিক নেকলাস ব্লু হোয়াইট রঙে পাওয়া যাবে।
এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো: এটি আরও বেশি অফ-রোড সক্ষমতা দেয়। এতে রয়েছে প্রো অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন, সামনে ২৫০ মিমি ও পেছনে ২২০ মিমি সাসপেনশন ট্রাভেল, ২৭০ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, ৮৯১ মিমি সিট হাইট, হ্যান্ডেলবার রাইজার এবং এক্সটেন্ডেড গিয়ার লিভার। এটি পার্ল ফেডলেস হোয়াইট রঙে পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে নিলয় মোটরস লিমিটেডের মাধ্যমে হিরো মোটোকর্পের মোটরসাইকেল বাজারজাত করা হয়। বর্তমানে দেশজুড়ে ৫৩০টির বেশি অনুমোদিত সেলস ও সার্ভিস আউটলেটের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি নতুন মোটরসাইকেল কেনার সঙ্গে গ্রাহকরা ৫ বছরের ওয়ারেন্টি ও ইন্সুরেন্স সুবিধা পাবেন।
এই মোটরসাইকেলটিতে রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় মূল্য। এক্সপালস ২০০ ৪ভি র দাম রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো-৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
এজেড