তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
শখের বশে কিংবা অনলাইন আয়ের মাধ্যম হিসেবে অনেকেই এখন ইউটিউব চ্যানেল খুলে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করছেন। কেউ কেউ এখান থেকে ভালো আয়ের পাশাপাশি বেশ জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন। ফলে নতুনদের ভিড় বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আর এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই নতুন চ্যানেলগুলোর জন্য মনিটাইজেশন বা আয়ের শর্ত আরও কড়া করার পরিকল্পনা নিয়েছে জনপ্রিয় এই ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি। নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে ইউটিউব থেকে আয় শুরু করতে বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে নির্মাতাদের।
ইউটিউবের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত নিয়মের আওতায় চ্যানেল মনিটাইজ করতে হলে গত এক বছরে অন্তত ৮ হাজার ঘণ্টা মানসম্পন্ন ওয়াচ আওয়ার বা দেখার সময় থাকতে হবে। এর আগে দীর্ঘ ভিডিও থেকে আয় শুরু করার জন্য ১ হাজার সাবস্ক্রাইবারের পাশাপাশি গত এক বছরে ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ আওয়ারের প্রয়োজন হতো। নতুন নিয়মে এই ওয়াচটাইমের শর্ত বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইউটিউবের এই নিয়ম না মানলে বন্ধ হতে পারে চ্যানেল
অন্যদিকে, শর্টস ভিডিওর ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আসছে। শর্টস থেকে আয় করতে হলে নির্মাতাদের এখনকার মতো ৯০ দিনে ১ কোটির পরিবর্তে অন্তত ২ কোটি মানসম্পন্ন ভিউ অর্জন করতে হবে। কোনো চ্যানেলের ভিউ এই নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে চ্যানেলটি পার্টনার প্রোগ্রামে থাকলেও সাময়িকভাবে শর্টস থেকে আয় বন্ধ থাকবে, যদিও দীর্ঘ ভিডিওর আয় সচল থাকবে। পরবর্তীতে আবার ৯০ দিনে দুই কোটি ভিউর কোটা পূরণ হলে শর্টস থেকে আয় চালুর সুযোগ মিলবে। তবে সাবস্ক্রাইবারের পূর্বের শর্তটি অপরিবর্তিত থাকছে।
বর্তমানে ইউটিউবের ব্যবহার ও দর্শকসংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির তথ্যমতে, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে ২০ হাজার কোটির বেশি শর্টস ভিডিও দেখা হয় এবং টেলিভিশনেও ইউটিউব দেখার পরিমাণ দৈনিক ১০০ কোটি ঘণ্টা ছাড়িয়েছে। ব্যবহারকারীর এই বিপুল বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আয়ের নীতিমালা সংস্কার করা হচ্ছে।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন এই শর্তগুলো কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ইতিমধ্যে যেসব চ্যানেল ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের (YPP) সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাদের ওপর এই নতুন নিয়ম কোনো প্রভাব ফেলবে না। বর্তমান নির্মাতারা আগের নিয়মেই নিয়মিত আয় চালিয়ে যেতে পারবেন।
এজেড