তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩১ এএম
অনেক বাড়িতেই স্মার্টফোনের চার্জার একবার বৈদ্যুতিক সকেটে লাগানো হলে সেটি আর সহজে খোলা হয় না। এই অভ্যাসটি দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এই যুগে স্মার্টফোন মানুষের নিত্যদিনের জীবনের অন্যতম অপরিহার্য অংশ। অফিসের কাজ, অনলাইন ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা বিনোদন সবকিছুর জন্যই মানুষ এখন ফোনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। আর এই কারণে প্রতিদিন অন্তত একবার ফোন চার্জ দেওয়া প্রায় সবারই নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।
সাধারণত এখনকার বেশিরভাগ স্মার্টফোনের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা সাড়ে চার হাজার থেকে ছয় হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার এবং চার্জারগুলো ৪৫ থেকে ৮০ ওয়াট ক্ষমতার হয়ে থাকে। একটি ফোন সম্পূর্ণ চার্জ হতে গড়ে ১৫ থেকে ২৫ ওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে চার্জিংয়ের সময় কিছু শক্তি তাপ হিসেবে অপচয় হওয়ায় প্রকৃত খরচ সামান্য বেশি হতে পারে। ফাস্ট চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা বেশি হয়। প্রতিদিন গড়ে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হলে মাস শেষে একটি স্মার্টফোন চার্জ করতে নামমাত্র কয়েক টাকা খরচ হয়।
তবে আসল সমস্যাটি তৈরি হয় যখন ফোন চার্জ দেওয়া শেষ হওয়ার পরও চার্জারটি সকেটেই লাগিয়ে রাখা হয়। চার্জার যখন সকেটে লাগানো থাকে এবং সুইচ অন করা থাকে, তখন কোনো ডিভাইস সংযুক্ত না থাকলেও এটি সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ টানতে থাকে। প্রযুক্তির ভাষায় একে স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার বা ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার বলা হয়। চার্জারের ভেতরে থাকা ছোট ট্রান্সফরমার ও সার্কিটগুলো সচল থাকার জন্যই এই বিদ্যুৎ খরচ করে। আধুনিক চার্জারগুলো স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় নামমাত্র বিদ্যুৎ খরচ করলেও সারাক্ষণ প্লাগে লাগিয়ে রাখার ফলে বড় ক্ষতি ডেকে আনে।
আরও পড়ুন: ১% চার্জে স্মার্টফোন কতক্ষণ চলে?

সারাক্ষণ সকেটে সংযুক্ত থাকার কারণে চার্জারের ভেতরের সার্কিট ও ক্যাপাসিটরগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চার্জারের স্থায়ী আয়ু অনেকটাই কমে যায়। এ ছাড়া হঠাৎ করে বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করলে কিংবা বজ্রপাতের মতো ঘটনা ঘটলে প্লাগে গুঁজে রাখা চার্জারটি মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং এর সঙ্গে আপনার দামী ফোনটিরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই সাবধানতার খাতিরে কাজ শেষে সবসময় চার্জার সকেট থেকে খুলে রাখা উচিত।
এজেড