তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
গরমের দিনে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য অনেকেই এয়ার কুলারে বরফ দেওয়ার চিরাচরিত কৌশলটি ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কুলারে বরফ দিলে কি সত্যিই ঠান্ডা বাড়ে? প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিচার করলে এর উত্তর হ্যা হলেও, এতে কুলার কখনো এসি বা এয়ার কন্ডিশনারে পরিণত হয় না। এ ধরনের দাবি প্রায়ই করা হলেও তা পুরোপুরি সঠিক নয়। কুলারে বরফ দিলে হাওয়া সামান্য ঠান্ডা হতে পারে, তবে এর চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা পাওয়া সম্ভব যদি কুলারটিকে সঠিক স্থানে রেখে চালানো হয় এবং ক্রস ভেন্টিলেশনের বিষয়টি যথাযথভাবে খেয়াল রাখা হয়।
কুলারের ঠান্ডা বাড়ানোর জন্য এর ট্যাংকে বরফ দেওয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি দেশি হ্যাক। এর পেছনে মূল যুক্তি হলো বরফ দিলে পানি দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং কুলার থেকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা হাওয়া বের হয়। প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই দাবি পুরোপুরি ভুল না হলেও এটি মূলত একটি অর্ধসত্য মাত্র। বাস্তবে বরফ দিলে হাওয়ার তাপমাত্রা কিছুটা কমে ঠিকই, কিন্তু এই অতিরিক্ত ঠান্ডা এতটাই সামান্য হয় যে বড় বা চোখে পড়ার মতো কোনো তফাত অনুভব করা যায় না। তাছাড়া কুলার যে নীতি বা প্রযুক্তিতে কাজ করে, তাতে এর জন্য আলাদা করে বরফের কোনো বিশেষ প্রয়োজন হয় না।
সব ধরনের কুলারের জন্য এই পদ্ধতি কার্যকরও নয়। কিছু নির্দিষ্ট ইনডোর কুলারে আলাদা করে আইস চেম্বার বা আইস বক্স দেওয়া থাকে। এই বিশেষ বক্সে বরফ সরাসরি পানিতে দেওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে গলে, ফলে কুলার দীর্ঘ সময় ধরে কিছুটা বেশি ঠান্ডা হাওয়া প্রদান করতে পারে।
সহজ কথায়, কুলারে বরফ দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই, তবে এতে খুব বেশি লাভ হয় না। একটি সাধারণ কুলারের বরফের কোনো প্রয়োজনই নেই, কারণ কুলার যে প্রযুক্তিগত নীতিতে কাজ করে তাতে পানি নিজেই ঠান্ডা হয়ে যায়। কুলারের সিস্টেমটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যেখানে পাম্পের সাহায্যে ওপর থেকে পানি নিচে নামানো হয়। পানির প্রবাহ স্থির রাখতে ঘাস বা হানিকম্ব প্যাড ব্যবহার করা হয়। যখন ওপর থেকে ক্রমাগত পানি নিচে নামতে থাকে, তখন তার মধ্য দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার ফলে পানি নিজে থেকেই ঠান্ডা হতে শুরু করে। চাইলে একটি সাধারণ কুলারের পানির তাপমাত্রা মেপে দেখতে পারেন, দেখবেন তা বাইরের তাপমাত্রার তুলনায় সবসময় অনেকটাই কম থাকে—আর এটি কোনো বরফ ছাড়াই সম্ভব হয়।
সব কুলারে বরফ দেওয়ার আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। যেসব কুলারে বিশেষভাবে আইস চেম্বার বা আলাদা বরফ দেওয়ার জায়গা থাকে, শুধুমাত্র সেইসব মডেলেই বরফ ব্যবহার করা উচিত। কুলারের পানিতে সরাসরি বরফ ফেলে দিলে তা দ্রুত গলে যায় এবং এর ফলে তেমন কোনো বড় পার্থক্য চোখে পড়ে না। তবে আলাদা বক্স বা চেম্বার থাকলে বরফ দ্রুত গলে যায় না এবং কুলারে তুলনামূলক বেশি সময় ধরে ঠান্ডা ভাব বজায় থাকে।
এই ধরনের কুলারগুলো সাধারণত ঘরের ভেতরে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কুলার হয়ে থাকে। ঘরের ভেতরে চলার কারণে কুলারের পানি ঘরের তাপমাত্রার তুলনায় খুব বেশি ঠান্ডা হতে পারে না, এমন পরিস্থিতিতে বরফ দিলে কিছুটা উপকার মিলতে পারে। তবে এতে কুলারের হাওয়ার তাপমাত্রা মাত্র কয়েক ডিগ্রি কমে, যা তীব্র গরমে সাধারণত তেমন একটা বোঝাই যায় না।

আসলে কুলারের ঠান্ডা বাড়ানোর জন্য তাতে বরফ ফেলার চেয়ে কুলারটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা অনেক বেশি কার্যকর। এর মাধ্যমে কুলারের ঠান্ডা সত্যি অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য কুলারটি সবসময় জানলার কাছাকাছি রেখে ব্যবহার করা উচিত, যাতে এটি বাইরের তাজা বাতাস টেনে পানিকে দ্রুত এবং আরও বেশি ঠান্ডা করতে পারে। এছাড়া দিনে সঠিক সময়ে কুলার চালু করতে হবে, যাতে ঘরের দেওয়াল ও ছাদ তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে এবং অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠতে না পারে।
আরও পড়ুন: এসি যেভাবে চালালে বিদ্যুৎ বিল কম আসে
যেখানেই কুলার চালান না কেন, সেখানে বায়ুচলাচলের সুব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। কুলারের সামনে যদি জানলা বা দরজা খোলা থাকে, তবে ক্রস ভেন্টিলেশনের ফলে ঘরের ভেতরে কুলারের ঠান্ডা বাতাসের কার্যকারিতা অনেকটাই বেড়ে যায়। প্রয়োজনে ঘরে এক্সহস্ট ফ্যানও ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি, কুলারের ঘাস বা প্যাড ব্লক হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা বদলে ফেলুন এবং নিয়মিত চেক করুন যে প্যাডগুলো ঠিকমতো ভিজছে কি না।
এজেড