Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

মানুষের জন্য নয়, এসি তৈরি হয়েছিল অন্য কাজে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

তীব্র গরমে বর্তমানে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি প্রায় প্রতিটি ঘর ও অফিসের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন যে, এই আধুনিক যন্ত্রটি আদতে মানুষের গরম থেকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। এর আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস, যা সাধারণ মানুষের ধারণার সম্পূর্ণ বাইরে।

আরও পড়ুন: ফোনে ১০০ নাকি ৮০ শতাংশ চার্জ দেওয়া উচিত? জেনে নিন আসল সত্য

১৯০২ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সি মার্কিন ইঞ্জিনিয়ার উইলিস ক্যারিয়ার আধুনিক বৈদ্যুতিক এয়ার কন্ডিশনার আবিষ্কার করেন। তবে তিনি এটি কোনো বাড়ি বা অফিস ঠান্ডা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করেননি; বরং একটি প্রিন্টিং সংস্থার বড় একটি সমস্যার সমাধান করতেই এর উদ্ভাবন করেছিলেন। সেই সময় নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত স্যাকেট অ্যান্ড উইলহেলমস লিথোগ্রাফিং অ্যান্ড পাবলিশিং কোম্পানিতে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা ছাপার কাজের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

industrial_ac

সে সময় বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প থাকায় কাগজ ফুলে যেত কিংবা সঙ্কুচিত হয়ে যেত, যার ফলে বহু রঙে ছাপার সময় কালি ঠিকমতো বসত না এবং প্রিন্টিং কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে উইলিস ক্যারিয়ার এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেন, যা একই সঙ্গে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিল। তিনি ধাতব কয়েলের মধ্য দিয়ে ঠান্ডা পানি প্রবাহিত করে একটি ফ্যানের সাহায্যে আর্দ্র বাতাস সেই কয়েলের ওপর দিয়ে চালিয়ে দিতেন, ফলে বাতাস ঠান্ডা ও শুষ্ক হয়ে যেত। এতে কাগজের আকার অপরিবর্তিত থাকত এবং কালি সঠিকভাবে শুকিয়ে প্রিন্টিংয়ের সমস্যার সমাধান হতো।

আরও পড়ুন: মোবাইল ফোন কে আবিষ্কার করেন

উইলিস ক্যারিয়ার তার এই আবিষ্কারের পেটেন্ট নেন ‘অপারেটাস ফর ট্রিটিং এয়ার’ নামে। আবিষ্কারের প্রায় দুই দশক পর্যন্ত এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র বস্ত্র, তামাক, ফিল্ম এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানায় ব্যবহৃত হতো, কারণ এসব শিল্পে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা ছিল অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: ফোনের ভলিউম বাটনের এই কাজগুলো জানেন না অনেকেই

পরবর্তীতে ১৯২০-এর দশকে সিনেমা হল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও সরকারি ভবনের মতো জনসমাগমস্থলে এসির ব্যবহার শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এটি আধুনিক স্থাপত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনে।

এজেড