images

তথ্য-প্রযুক্তি

ফোনের এক প্রান্তের কথা শত কিলোমিটার দূরে অপর প্রান্তে কীভাবে পৌঁছায়?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ এএম

মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা নানা প্রয়োজনে ফোনে কথা বলি। বিশেষ বিষয় হলো, অপর প্রান্তের ব্যক্তি আমাদের পাশে থাকুন বা হাজার কিলোমিটার দূরে, আমরা যা বলি তা প্রায় একই মুহূর্তে তাঁর কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, ফোনে বলা কথা এত দ্রুত অন্য প্রান্তে কীভাবে পৌঁছায়? এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

data

মাইক্রোফোন থেকে যাত্রার শুরু

যখন আপনি ফোনে কথা বলেন, তখন প্রথমে মোবাইলের মাইক্রোফোন আপনার কণ্ঠস্বর গ্রহণ করে। এটি শব্দতরঙ্গকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করে। ফোনের মাইক্রোচিপ সেই বৈদ্যুতিক সিগন্যালকে কম্পিউটারের বোধগম্য বাইনারি কোডে (০ এবং ১) পরিবর্তন করে। এই প্রক্রিয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কমিয়ে কথোপকথন পরিষ্কার করা হয়।

towe_pc

মোবাইল টাওয়ারে সিগন্যাল প্রেরণ

বাইনারি কোডে রূপান্তরিত তথ্য মোবাইলের অ্যান্টেনা থেকে রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ারে পাঠানো হয়। এই সিগন্যাল আলোর গতির কাছাকাছি বেগে ভ্রমণ করে। মোবাইল টাওয়ার সেই সিগন্যাল গ্রহণ করে বেস স্টেশনে পাঠায়। বেস স্টেশন পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে এবং কলটি কোথায় পাঠানো হবে তা নির্ধারণ করে।

সুইচিং স্টেশনের ভূমিকা

কলটি একই নেটওয়ার্কের অন্য মোবাইলে হলে বেস স্টেশন সরাসরি সংশ্লিষ্ট টাওয়ারে সিগন্যাল পাঠিয়ে দেয়। তবে কলটি অন্য নেটওয়ার্ক বা ল্যান্ডলাইনে হলে প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল হয়। তখন ভয়েস ডেটা ফাইবার অপটিক কেবল বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সুইচিং স্টেশনে পৌঁছায়, যাকে মোবাইল নেটওয়ার্কের মস্তিষ্ক বলা হয়।

Phone-kotha20160720125118

রিসিভারের কাছে কণ্ঠস্বরের পৌঁছানো

সুইচিং স্টেশন প্রথমে খুঁজে বের করে রিসিভার বর্তমানে কোথায় আছেন। এরপর তার সবচেয়ে কাছের মোবাইল টাওয়ারে ডেটা পাঠানো হয়। সেই টাওয়ার রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে সিগন্যাল সম্প্রচার করে। রিসিভারের মোবাইল ফোন সিগন্যাল গ্রহণ করে পুনরায় বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তরিত করে। সবশেষে ফোনের স্পিকার সেই সিগন্যালকে শব্দে রূপান্তর করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি আপনার কণ্ঠস্বর শুনতে পান।

আরও পড়ুন: মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন মানবদেহ-জীবজন্তুর জন্য ক্ষতিকর নয়

মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন প্রক্রিয়া

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত ঘটে যে আমরা কোনো বিলম্ব অনুভব করি না। মাইক্রোফোন থেকে শুরু করে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক ও সুইচিং স্টেশনের মাধ্যমে এই যাত্রা মুহূর্তের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায়। আর সেই কারণেই আজ আমরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারি।

এজেড