images

তথ্য-প্রযুক্তি

স্মার্টফোন কেনার সময় যে দরকারি ফিচারগুলো আমাদের নজর এড়িয়ে যায়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

নতুন একটি স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের নজর সাধারণত ক্যামেরা, প্রসেসর, ডিসপ্লে আর ব্যাটারির ক্ষমতার ওপরই আটকে থাকে। এই মূল স্পেসিফিকেশনগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে প্রতিদিনের বাস্তব ব্যবহারে একটি ফোন আপনাকে কতটা স্বস্তি দেবে, তা শুধু এই কয়েকটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। 

অনেক সময় দেখা যায়, ফোনের সবচেয়ে কাজের ফিচারগুলো নিয়ে আমরা তেমন একটা আলোচনাই করি না। অথচ এই ফিচারগুলোর বেশির ভাগই বিভিন্নভাবে অনেক বছর ধরে ফোনে রয়েছে এবং প্রতিদিনের জীবনকে সহজ করতে এগুলো দারুণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি বাজারে আসা ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো মডেলটি তেমনই কিছু চোখ এড়িয়ে যাওয়া অথচ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ফিচারের দিকে আমাদের নজর ফেরাচ্ছে।

স্মার্টফোনেই মিলবে স্বাস্থ্যের খোঁজ

আমরা সাধারণত ভাবি শরীর ভালো রাখার বা স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়ার ফিচারগুলো শুধু ফিটনেস ব্যান্ড বা স্মার্টওয়াচেই থাকে। কিন্তু এখন এই সুবিধাগুলো সরাসরি স্মার্টফোনেই চলে আসছে। উদাহরণ হিসেবে ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো-এর কথাই ধরা যাক। এই ফোনে রয়েছে বিল্ট-ইন হেলথ মনিটরিং ফিচার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব দ্রুত সরাসরি ফোন থেকেই নিজের হার্ট রেট বা রক্তে অক্সিজেনের পরিমাপের মতো জরুরি তথ্যগুলো দেখে নিতে পারেন। ফোন কেনার সময় হয়তো কেউ এই ফিচারটি প্রথমে খোঁজেন না, কিন্তু অফিসের ব্যস্ত দিনগুলোতে বা ভ্রমণের সময় এটি দারুণ উপকারে আসে।

বারবার আনলকের ঝামেলাহীন ‘অ্যাক্টিভ ম্যাট্রিক্স’ ডিসপ্লে

ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট ও ব্যক্তিগত করে তুলতে ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো ফোনে যুক্ত করা হয়েছে ‘অ্যাক্টিভ ম্যাট্রিক্স’ নামের একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডিসপ্লে সিস্টেম। এর বড় সুবিধা হলো, বারবার ফোন আনলক না করেই ব্যবহারকারীরা স্ক্রিনে জাস্ট আলোর সিগন্যাল, নোটিফিকেশন বা জরুরি আপডেটগুলো দেখে নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, এখানে নিজের পছন্দমতো অ্যানিমেশন বা ইন্টারঅ্যাক্টিভ ‘পিক্সেল পেটস’ সেট করে রাখা যায়। এই ফিচারগুলো প্রথম দেখায় কেবল সৌন্দর্যের জন্য মনে হতে পারে, কিন্তু এগুলো আসলে স্মার্টফোনকে আরও বেশি সুবিধাজনক করে তোলে।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন স্মার্টফোন রিস্টার্ট করা কি সত্যিই জরুরি?

এক চাপেই মুশকিল আসান: ওয়ান-ট্যাপ শর্টকাট বাটন

প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজকে দ্রুত করার জন্য এই ফোনে দেওয়া হয়েছে একটি কাস্টমাইজড ‘ওয়ান-ট্যাপ বাটন’। ব্যবহারকারী নিজের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী এই বাটনটি সেট করে নিতে পারবেন। এই বাটনটিতে জাস্ট একটা চাপ দিয়েই সরাসরি সাইলেন্ট মোড চালু করা, ফ্ল্যাশলাইট জ্বালানো বা পছন্দের কোনো অ্যাপ খোলার মতো কাজগুলো এক সেকেন্ডে করে ফেলা সম্ভব। এই ছোটখাটো ফিচারগুলো সময় বাঁচায় বলে খুব দ্রুতই আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়।

বড় ব্যাটারি মানেই কি ভারী ফোন? বদলে গেছে ধারণা

দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টফোনপ্রেমীদের মনে একটা ধারণা ছিল যে, বড় ব্যাটারি মানেই ফোনটি দেখতে ভারী আর মোটা হবে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন এই ধারণা বদলে যাচ্ছে। ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো মডেলে একটি শক্তিশালী ৬৫০০ এমএএইচ (mAh) ব্যাটারির সাথে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত স্লিম মেটাল-ফ্রেম ডিজাইন। এটি প্রমাণ করে যে, দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়ার জন্য ফোনের সুন্দর ও হালকা ডিজাইন বিসর্জন দেওয়ার দিন এখন শেষ। যারা সারাদিন কাজের প্রয়োজনে ফোনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করেন, তাদের কাছে এই স্লিম ডিজাইন ও বড় ব্যাটারির কম্বিনেশন অন্য যেকোনো বড় স্পেসিফিকেশনের মতোই জরুরি।

স্মার্টফোনের দুনিয়াটা যত উন্নত হচ্ছে, নতুন নতুন টেকনোলজিগুলো এখন আর কেবল প্রসেসরের ক্ষমতার সংখ্যার মধ্যে আটকে থাকছে না। অ্যাক্টিভ ম্যাট্রিক্স, বিল্ট-ইন হেলথ মনিটরিং, শর্টকাট বাটন আর শক্তিশালী ব্যাটারির মতো ফিচারগুলো হয়তো নতুন কোনো ক্যামেরা সেন্সর বা চিপসেটের মতো হইচই তৈরি করে না, কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহারে এগুলোই সবচেয়ে বড় স্বস্তি হয়ে দাঁড়ায়। ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো মূলত এই টেকসই পরিবর্তনটিকেই তুলে ধরেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, যে ফিচারগুলোকে আজ আমরা হয়তো সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যাচ্ছি, সময়ের সাথে সাথে ওগুলোই আমাদের সবচেয়ে প্রিয় আর দরকারি হয়ে উঠছে।

এজেড