images

তথ্য-প্রযুক্তি

ওয়াশিং মেশিনে শক লাগলে সাবধান! বড় দুর্ঘটনার ৫টি সতর্ক সংকেত জানুন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৯ এএম

ওয়াশিং মেশিন এখন প্রতিটি বাড়ির একটি অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্র। প্রতিদিনের কাপড় ধোয়ার কাজ সহজ করে দেওয়া এই মেশিনটিকে আমরা অনেকেই অবহেলা করি। বড় কোনো সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত এটি মেরামতের কথা ভাবা হয় না। তবে ছোটখাটো কিছু ত্রুটি ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, আগুন লাগা বা পানি লিক করার মতো সমস্যা শুধু মেশিনের ক্ষতি করে না। এটি পরিবারের সদস্যদের জীবনের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ওয়াশিং মেশিনের ৫টি সাধারণ সমস্যা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

১. স্পর্শ করলেই বিদ্যুতের ঝাঁকুনি লাগা

ওয়াশিং মেশিন ধরার সময় যদি হালকা শক বা বিদ্যুতের ঝাঁকুনি অনুভব করেন, তবে সতর্ক হন। এটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে ভুল করবেন না। এটি ত্রুটিপূর্ণ আর্থিং বা ভেতরের তার কেটে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় বৈদ্যুতিক অংশে পানি ঢুকে গেলেও এমনটি হয়। এই সমস্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

করণীয়: দ্রুত বাড়ির আর্থিং পরীক্ষা করান। ক্ষতিগ্রস্ত বা কাটা তার থাকলে তা বদলে ফেলুন। একজন দক্ষ মেকানিক দিয়ে পুরো মেশিনটি ভালো করে দেখান। সাধারণত আর্থিং বা ওয়্যারিং মেরামতের জন্য ৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

২. পোড়া বা প্লাস্টিক গলে যাওয়ার গন্ধ

যদি ওয়াশিং মেশিন থেকে কোনো ধরনের পোড়া গন্ধ আসে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। মোটরের অতিরিক্ত গরম হওয়া, তার গলে যাওয়া কিংবা ক্যাপাসিটর নষ্ট হওয়ার কারণে এমন গন্ধ বের হয়। এর ফলে শর্ট সার্কিট বা আগুন লাগার মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অবহেলা করলে মেশিনের মোটরটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

করণীয়: গন্ধ পাওয়া মাত্রই মেশিনের মেইন পাওয়ার সুইচ বন্ধ করুন। মোটর এবং তারের সংযোগগুলো পরীক্ষা করান। নষ্ট হয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ দ্রুত বদলে ফেলুন। সমস্যার ধরন অনুযায়ী এই কাজে ১,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

staticshock

৩. মেশিনের আশপাশে পানি জমা হওয়া

ওয়াশিং মেশিনের নিচে বা চারপাশে পানি লিক হওয়া একটি পরিচিত সমস্যা। সাধারণত পাইপ বা দরজার সিল নষ্ট হলে পানি চুইয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ছোট সমস্যা মনে করে রেখে দেন। তবে মেঝেতে জমে থাকা পানি মেশিনের বৈদ্যুতিক অংশে পৌঁছে শর্ট সার্কিট ঘটাতে পারে। এছাড়া ভেজা মেঝেতে পিছলে গিয়ে বড় ধরনের আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

করণীয়: লিক হওয়া পাইপটি দ্রুত বদলে ফেলুন। দরজার সিলটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনে নতুন সিল লাগান। সব সংযোগ শক্ত করে লাগানো আছে কি না তা নিশ্চিত করুন। এই সমস্যা সমাধানে সাধারণত ৩০০ থেকে ২,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।

৪. অতিরিক্ত কম্পন ও অস্বাভাবিক শব্দ

কাপড় শুকানোর সময় বা স্পিন মোডে মেশিন যদি খুব বেশি কাঁপে, তবে বুঝতে হবে ভেতরে যান্ত্রিক ত্রুটি আছে। কাপড়ের ভারসাম্য ঠিক না থাকা কিংবা ভেতরের শক অ্যাবজরবার নষ্ট হলে এমনটি হয়। নিয়মিত অতিরিক্ত কম্পনের ফলে মেশিনের ভেতরের পার্টসগুলো আলগা হয়ে যায়। এতে মেশিনের আয়ু কমে যায় এবং এটি উল্টে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আরও পড়ুন: একবার ওয়াশিং মেশিন চালালে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়?

করণীয়: ওয়াশিং মেশিনটি সবসময় একটি সমান বা সমতল জায়গায় রাখুন। নষ্ট হয়ে যাওয়া সাসপেনশন বা শক অ্যাবজরবার বদলে ফেলুন। মেশিন স্থির রাখতে উন্নত মানের রাবার প্যাড ব্যবহার করতে পারেন। এই ধরনের মেরামতে ৮০০ থেকে ৪,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।

৫. মেশিন চালু করলেই এমসিবি ট্রিপ করা

যদি ওয়াশিং মেশিন চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের এমসিবি ট্রিপ করে বা বিদ্যুৎ চলে যায়, তবে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। মেশিনের ভেতরে বড় কোনো শর্ট সার্কিট বা হিটিং এলিমেন্টে ত্রুটি থাকলে এমনটি হয়। মোটর পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলেও এই সমস্যা দেখা দেয়। এর থেকে বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে আগুন লেগে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকে।

করণীয়: এই সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে মেশিনের প্লাগ খুলে দিন। কোনোভাবেই নিজে খোলার চেষ্টা করবেন না। অনুমোদিত কোম্পানির টেকনিশিয়ান ডেকে পরীক্ষা করান। এই ধরনের জটিল মেরামতে ৩০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

নিরাপদ থাকার কিছু জরুরি পরামর্শ

ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘকাল ভালো রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। প্রতি ৬ থেকে ১২ মাসে একবার মেশিনটি সার্ভিসিং করান। ড্রামের ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত কাপড় একসঙ্গে দেবেন না। সবসময় সঠিক আর্থিংযুক্ত থ্রি-পিন সকেট ব্যবহার করুন। মেশিনের চারপাশ সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দীর্ঘ সময় মেশিন চালু রেখে সেটিকে একা ফেলে কোথাও যাবেন না।

এজেড