তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০১ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
ইন্টারনেট পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বাড়ি কিংবা অফিসে ২৪ ঘণ্টাই ওয়াইফাই রাউটার চালু রাখা এক সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এয়ার কন্ডিশনার বা এসিতে আগুন লাগা কিংবা বিস্ফোরণের বেশ কিছু খবর সামনে আসার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে যে সারাক্ষণ চলতে থাকা ওয়াইফাই রাউটারও কি একইভাবে বিস্ফোরিত হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাউটারে এসির মতো বড় কম্প্রেসার বা উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা নেই বললেই চলে। তবে দীর্ঘ সময় চালু রাখার কারণে অতিরিক্ত গরম হওয়া, শর্ট সার্কিট বা যন্ত্রাংশ গলে আগুন লাগার মতো ছোটখাটো ঝুঁকি একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ওয়াইফাই রাউটারের ভেতরে একাধিক ছোট ইলেকট্রনিক উপাদান এবং একটি পাওয়ার অ্যাডাপ্টার থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল থাকার কারণে এই ভেতরের অংশগুলো স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদি ব্যবহৃত রাউটার বা অ্যাডাপ্টারের মান ভালো না হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ওঠানামা করে কিংবা ডিভাইসটির চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা না থাকে, তবে বিপদের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। অনেক সময় রাউটার স্পর্শ করলে যদি অতিরিক্ত গরম মনে হয়, বারবার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে থাকে কিংবা ভেতর থেকে কোনো পোড়া গন্ধ বের হয়, তবে সেটিকে বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায়: এই তাপমাত্রায় এসি চালালে সাশ্রয় হবে অর্ধেক
রাউটার নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে এর স্থাপন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেই রাউটারটিকে ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে টিভির পেছনে, বন্ধ আলমারির ভেতরে কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ওপর চেপে রেখে দেন। এতে যন্ত্রটির ভেতরের গরম বাতাস বের হতে পারে না এবং তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকে। এই সমস্যা এড়াতে রাউটার সবসময় ঘরের এমন খোলা জায়গায় রাখা উচিত যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।
এছাড়া রাউটারের ওপর কোনো ভারী জিনিস বা কাপড় রাখা যাবে না এবং নিয়মিত এর গায়ে জমে থাকা ধুলাবালি পরিষ্কার করতে হবে।
ডিভাইসটিকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে আসল এবং মানসম্মত অ্যাডাপ্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ঘরের বিদ্যুতের ওঠানামা বা ভোল্টেজ শক থেকে রাউটারকে বাঁচাতে সার্জ প্রোটেক্টর বা ভালো মানের মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কোনো সংযোগকারী তার বা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত দেখা দিলে তা দ্রুত বদলে ফেলা উচিত। খুব পুরোনো বা কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা রাউটার পরিবর্তন করা এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ঢাকার বাইরে বা দূরে কোথাও ভ্রমণে গেলে ঘরের রাউটারটি বন্ধ করে রাখা ভালো। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার এবং সামান্য রক্ষণাবেক্ষণ করলেই এই প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিটি শতভাগ নিরাপদ রাখা সম্ভব।
এজেড