Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

ফোনের ‘ব্লুটুথ’ এক রাজার নামে রাখা হয়েছে— একথা আগে জানতেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইয়ারবাড কিংবা স্মার্টওয়াচ—বর্তমান যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে 'ব্লুটুথ' (Bluetooth) প্রযুক্তি। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই তারবিহীন যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করছেন। তবে এর নামের পেছনে যে এক হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক রাজকীয় ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে, তা হয়তো অধিকাংশ মানুষেরই অজানা।

প্রযুক্তি নয়, উৎস এক ঐতিহাসিক রাজা

কোনো বিজ্ঞান বা প্রযুক্তিগত শব্দ থেকে নয়, বরং এই আধুনিক প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে দশম শতাব্দীর এক স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাজার নামানুসারে। যার জীবন ও কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত ইতিহাস।

ডেনমার্কের রাজা হ্যারাল্ডের ইতিহাস

৯৫৮ থেকে ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে (বর্তমান ডেনমার্ক, সুইডেন ও নরওয়ে) রাজত্ব করতেন রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথ গর্মসন (Harald Bluetooth Gormsson)। তিনি ডেনমার্ক ও নরওয়ের ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন।

বিচ্ছিন্ন রাজ্যকে এক করার কৃতিত্ব

রাজা হ্যারাল্ড যুদ্ধরত বিভিন্ন গোত্র, ভিন্ন মতাদর্শের মানুষ ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোকে একত্রিত করে একক ডেনমার্ক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

যেভাবে এলো 'ব্লুটুথ' নামটি

১৯৯০-এর দশকে যখন একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মিলে স্বল্প দূরত্বের একটি তারবিহীন (ওয়্যারলেস) যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির কাজ করছিল, তখন 'ইন্টেল' প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলী এই নামটি প্রস্তাব করেন।

bluetooth-logo2-100752187-orig

নাম ও কাজের নিখুঁত মিল

রাজা হ্যারাল্ড যেভাবে বিচ্ছিন্ন রাজ্যগুলোকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন, এই নতুন প্রযুক্তিও ঠিক একইভাবে ভিন্ন ভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে—এই ভাবনা থেকেই সাময়িকভাবে 'ব্লুটুথ' কোডনামটি রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটিই স্থায়ী রূপ পায়।

কেন নাম হয়েছিল 'ব্লুটুথ' বা নীল দাঁত?

ইতিহাসে প্রচলিত রয়েছে, রাজা হ্যারাল্ডের একটি দাঁত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গাঢ় নীল বা কালচে রঙের রূপ নিয়েছিল। এই রাজকীয় ডাকনামই আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তির নাম।

লোগোতেও লুকিয়ে রাজকীয় রহস্য

ব্লুটুথের বহুল পরিচিত লোগোটি কিন্তু কোনো সাধারণ নকশা নয়। প্রাচীন নর্ডিক বর্ণমালার (রুনিক হরফ) দুটি অক্ষরের সংমিশ্রণে এটি তৈরি করা হয়েছে।

আদ্যক্ষরের অনন্য মেলবন্ধন

রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথের নামের আদ্যক্ষর 'H' এবং 'B'-কে প্রাচীন নর্ডিক হরফে রূপান্তর করে জোড়া লাগালেই আজকের ব্লুটুথ লোগোটি তৈরি হয়। অর্থাৎ, শুধু নামই নয়, এর লোগোটিও সরাসরি সেই রাজারই প্রতীক।

আরও পড়ুন: রাউটারের বাংলা অর্থ কী?

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ইতিহাসের এই অনন্য মেলবন্ধনই ব্লুটুথ প্রযুক্তিকে আজ মানুষের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

এজেড