তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০১ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
এই ডিজিটাল যুগে ব্যাংকিং লেনদেন যেমন সহজ হয়েছে, ঠিক তেমনি বেড়েছে সাইবার অপরাধীদের নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদ। একটু অসচেতনতার কারণেই মুহূর্তের মধ্যে খালি হয়ে যেতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখার প্রধান উপায়গুলো সম্পর্কে জানুন এই প্রতিবেদনে।
১. গোপন পিন এবং ওটিপি (OTP) সর্বদা নিজের কাছে রাখুন
মূল নিয়ম: ব্যাংক, কোনো সরকারি দফতর বা নামী কোনো সংস্থা কখনোই আপনার কাছে ফোন, মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে ওটিপি, এটিএম পিন, পাসওয়ার্ড কিংবা কার্ডের পেছনের নম্বর জানতে চাইবে না।
করণীয়: কেউ ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এই তথ্যগুলো চাইলে সরাসরি ফোন কেটে দিন। এই তথ্যগুলো শেয়ার করা মানেই আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া।
২. সন্দেহজনক লিংক ও কিউআর কোড এড়িয়ে চলুন
ফাঁদ: লটারি জেতা, সস্তায় ঋণ বা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অজুহাতে হোয়াটসঅ্যাপ, এসএমএস কিংবা ইমেইলে বিভিন্ন আকর্ষণীয় বা ভীতিপ্রদ লিংক পাঠানো হয়।
করণীয়: কোনো অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না। মনে রাখবেন, টাকা পাওয়ার জন্য বা রিসিভ করার জন্য কখনো কিউআর কোড স্ক্যান করতে হয় না—কোড স্ক্যান শুধুমাত্র টাকা পাঠানোর জন্যই ব্যবহৃত হয়।

৩. রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন
প্রতারণার কৌশল: অনেক সময় প্রতারকরা ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট সেজে ফোন করে মোবাইলের কোনো সমস্যা সমাধানের অজুহাতে AnyDesk, TeamViewer বা RustDesk-এর মতো স্ক্রিন শেয়ারিং অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলে।
বিপদ: এই অ্যাপগুলো ইনস্টল করলে প্রতারকরা দূর থেকে আপনার পুরো মোবাইলের স্ক্রিন দেখতে পায় এবং আপনার অজান্তেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ থেকে টাকা সরিয়ে নেয়।
৪. সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য শেয়ারে রাশ টানুন
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাংকের পাসবইয়ের ছবি, জন্মতারিখ কিংবা নিজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কিত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করুন। অপরাধীরা এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে আপনার ভুয়া পরিচয় তৈরি করে বড় ধরনের জালিয়াতি করতে পারে।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোন কত দিন পরপর বদলানো উচিত?
৫. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখুন
আপনার সমস্ত ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিশেষ করে ব্যাংকিং ও ডিজিটাল ওয়ালেট (যেমন- বিকাশ, নগদ বা ইউপিআই অ্যাপ) অ্যাপগুলোতে 'Two-Factor Authentication' বা বায়োমেট্রিক লক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট/ফেস আইডি) চালু রাখুন। এর ফলে পাসওয়ার্ড হ্যাক হলেও কেউ সহজে আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।
প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত কী করবেন?
যদি কোনো কারণে আপনি সাইবার প্রতারণার শিকার হন বা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়, তবে প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন-
হেল্পলাইনে যোগাযোগ: কোনো রকম দেরি না করে অবিলম্বে ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বরে কল করে অভিযোগ জানান। ঘটনা ঘটার গোল্ডেন আওয়ারের (১-২ ঘণ্টার মধ্যে) মধ্যে অভিযোগ জানালে টাকা হোল্ড বা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
সচেতনতাই আসল সুরক্ষা: সাইবার অপরাধীদের ফাঁদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো অতিরিক্ত লোভ বা হুজুগে না মেতে যেকোনো ডিজিটাল লেনদেনের সময় নিজের বুদ্ধি ও সচেতনতা বজায় রাখা।
এজেড