images

তথ্য-প্রযুক্তি

এসি একটানা কতক্ষণ চালানো নিরাপদ?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২৯ মে ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

গরমকালে ঘরের উত্তাপ কমাতে দীর্ঘ সময় একটানা এয়ারকন্ডিশন বা এসি চালানো এখন আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। অনেকেই ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি চালিয়ে রাখেন, এমনকি অল্প সময়ের জন্য বাইরে গেলেও তা বন্ধ করেন না। কিন্তু খুব বেশি সময় একটানা এসি চালালে তা শুধু মেশিনের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং বেশ বিপজ্জনকও হতে পারে। যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মতোই এসিকে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় কম্প্রেসর নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে শর্ট সার্কিট বা আগুন লাগার মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এসি একটানা কতক্ষণ চালানো নিরাপদ তা মূলত নির্ভর করে ঘরের আকার এবং এসির ক্ষমতার ওপর। সাধারণত ছোট ঘরে এক টনের এসি ব্যবহার করা হলে তা একটানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত চালানো যেতে পারে। অন্যদিকে বড় ঘরের ক্ষেত্রে যদি ১.৫ টন বা ২ টনের এসি থাকে, তবে তা একটানা সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চালানো সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে এই সময়ের চেয়ে বেশি চালানো হলে এসি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, যার ফলে কম্প্রেসরের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে এবং বিদ্যুৎ বিলও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

air_conditioner_inverter_8632c6c9-72f6-41a3-ae2b-95564d22f0be

দীর্ঘ সময় একটানা এসি চালানোর ফলে মেশিনের কার্যক্ষমতা যেমন কমে যায়, তেমনি ভেতরের যন্ত্রাংশ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। এই বিপদ এড়াতে এবং নিরাপদে এসি ব্যবহার করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। প্রথমত, একটানা দীর্ঘ সময় না চালিয়ে মাঝে মাঝে এসি বন্ধ করে মেশিনকে কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। এছাড়া নিয়মিত এসির সার্ভিসিং করানো এবং এর ফিল্টার পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন, যা মেশিনের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: ইনভার্টার নাকি সাধারণ এসি, কোনটা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ?

নিরাপদ ব্যবহারের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ। খুব কম তাপমাত্রায় যেমন ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রির মধ্যে দীর্ঘ সময় এসি চালানো ঠিক নয়, এতে কম্প্রেসরের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। তাই এসি ২৫ বা ২৬ ডিগ্রিতে চালানোই সবচেয়ে উত্তম। সবশেষে, বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই মনে করে এসি বন্ধ করার অভ্যাস করতে হবে। এই সাধারণ নিয়মগুলো মেনে চললে এসি যেমন দীর্ঘদিন ভালো থাকবে, তেমনি যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে।

এজেড