images

তথ্য-প্রযুক্তি

স্ক্যামারদের হাতে কীভাবে পৌঁছায় আপনার গোপন ফোন নম্বর

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ১০:১০ এএম

সকালের জরুরি মিটিং হোক কিংবা রাতের ঘুম, হুটহাট অচেনা নম্বর থেকে আসা স্প্যাম কলের যন্ত্রণায় পড়েননি এমন মোবাইল ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া দায়। লোন দেওয়া, লটারি জেতা কিংবা পার্ট-টাইম চাকরির লোভ দেখিয়ে আসা এই কলগুলো শুধু বিরক্তিকরই নয়, বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির ফাঁদও বটে। তবে এই যন্ত্রণার মাঝে অনেকের মনেই সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি জাগে তা হলো, এইসব স্ক্যামার বা প্রতারকদের কাছে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি আসলে পৌঁছায় কীভাবে? সাইবার বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা এবং কিছু প্রযুক্তিগত ফাঁকফোকরকে দায়ী করেছেন।

আমাদের নম্বর ফাঁস হওয়ার প্রধান উৎস হলো বিভিন্ন শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর কিংবা অনলাইন কেনাকাটার সাইট। অনেক সময় ছাড় বা লটারির কুপন জেতার আশায় আমরা সানন্দে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর বিলিয়ে আসি।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভাণ্ডার থেকে অনেক সময় গ্রাহকদের ডেটা লিক হয় অথবা তারা নিজেরা মুনাফার জন্য থার্ড পার্টি মার্কেটিং কোম্পানির কাছে এই ডেটাবেস বিক্রি করে দেয়। এছাড়া ইন্টারনেটে নানারকম সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা, অনিরাপদ ওয়েবসাইটে ইমেইল বা ফোন নম্বর ইনপুট করা এবং অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমেও আমাদের গোপন নম্বরটি খুব সহজে স্ক্যামারদের হাতে চলে যায়।

আরও পড়ুন: ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হওয়ার ঝুঁকি

নম্বর হাতানোর আরেকটি বড় মাধ্যম হলো স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ। প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে কোনো অ্যাপ নামানোর পর আমরা অনেকেই না পড়ে দ্রুত সব শর্তে ‘অ্যালাউ’ বা সম্মতি দিয়ে দিই। অনেক অ্যাপ অপ্রয়োজনেও ব্যবহারকারীর কন্টাক্ট লিস্ট বা ফোনবুক অ্যাক্সেস করার অনুমতি নেয়। এর ফলে শুধু আপনার নম্বরই নয়, আপনার ফোনে সেভ থাকা পরিচিত সবার নম্বরই চলে যায় সেই অ্যাপের সার্ভারে, যা পরবর্তীতে স্ক্যামারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

4dd82911dd6046bf979023c24e4aa40a_w739_h415

এই ফাঁদ থেকে বাঁচতে এবং নম্বরের গোপনীয়তা বজায় রাখতে কিছু বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। যেকোনো জায়গায় বা অচেনা মানুষের কাছে হুট করে নিজের ফোন নম্বর দেওয়া বন্ধ করতে হবে। 

স্মার্টফোনে কোনো নতুন অ্যাপ নামানোর সময় সেটি যেন অপ্রয়োজনে কন্টাক্ট লিস্টের পারমিশন না পায়, তা ফোনের সেটিংসে গিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কোনো অচেনা নম্বর থেকে কল এলে তা রিসিভ না করে সরাসরি বেজে যেতে দেওয়াই ভালো, কারণ কল ধরলেই স্ক্যামারদের স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম বুঝে যায় যে নম্বরটি সক্রিয় রয়েছে এবং তখন স্প্যাম কলের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

স্প্যাম কলের এই স্থায়ী ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি স্মার্টফোনে থাকা ইন-বিল্ট স্প্যাম ফিল্টার ফিচারটি চালু করা যেতে পারে। মোবাইলের কল সেটিংসে গিয়ে ‘স্প্যাম অ্যান্ড কল আইডি’ অপশনটি সক্রিয় রাখলে কোনো সন্দেহজনক নম্বর থেকে ফোন আসার সাথে সাথেই স্ক্রিনে লাল রঙে সতর্কবার্তা দেখা যায়। পাশাপাশি ট্রুকলার বা রোবোকিলারের মতো নির্ভরযোগ্য কলার আইডি অ্যাপ ব্যবহার করলে যেকোনো প্রতারণামূলক কল ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর আগেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যায়। ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সামান্য এই সচেতনতাটুকুর কোনো বিকল্প নেই।

এজেড