তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৪ মে ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপনার স্মার্টফোনটি কি কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে? কিংবা কোনো ভারী ব্যবহার ছাড়াই চোখের পলকে ফুরিয়ে যাচ্ছে দৈনিক ইন্টারনেট ডেটা? বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ব্যবহারকারী থাকা এই বিশাল প্ল্যাটফর্মটি স্বভাবতই হ্যাকার এবং সাইবার অপরাধীদের প্রধান নজরে থাকে। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহক থাকার কারণে অ্যানড্রয়েড ডিভাইসগুলো ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস হামলার সবচেয়ে সহজ টার্গেটে পরিণত হয়। ফোনে একবার ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ঢুকে পড়লে তা কেবল আপনার ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে না, বরং ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
সাধারণত কোনো অপরিচিত উৎস, আনঅফিশিয়াল ওয়েবসাইট কিংবা পেইড অ্যাপের ফ্রি বা ক্র্যাকড ভার্সন ডাউনলোড করার লোভেই ফোনে ভাইরাস প্রবেশ করে। এই ক্ষতিকর অ্যাপগুলো ইনস্টল হওয়ার পর আপনার ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে। এছাড়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা, অনিরাপদ ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা কিংবা ত্রুটিপূর্ণ মডিফাইড ইউএসবি কেবলের মাধ্যমেও ম্যালওয়্যার ছড়াতে পারে। একবার ডিভাইসটি ইনফেক্টেড বা হ্যাকড হয়ে গেলে ফোনটি কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, যা দেখে আপনি সহজেই বিপদটি আঁচ করতে পারবেন।
স্ক্রিনজুড়ে বিরক্তিকর বিজ্ঞাপনের বন্যা
ফোন হ্যাক হওয়ার অন্যতম প্রথম এবং স্পষ্ট লক্ষণ হলো স্ক্রিনে বারবার অদ্ভুত ধরনের পপ-আপ বিজ্ঞাপনের আগমন। আপনি যখন কোনো সাধারণ অ্যাপ ব্যবহার করছেন বা ইন্টারনেট ব্রাউজিং করছেন, তখন যদি হুট করে বন্ধ করা কঠিন এমন বিজ্ঞাপনের বন্যা শুরু হয়, তবে বুঝতে হবে ডিভাইসে ম্যালওয়্যার রয়েছে। এই ক্ষতিকর বিজ্ঞাপনগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে সচল থেকে আপনার অনলাইন কর্মকাণ্ড ট্র্যাক করে এবং অনেক সময় ক্লিক না করলেও আপনাকে অন্য কোনো বিপজ্জনক ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। বিশেষ করে ‘টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য কল করুন’ জাতীয় পপ-আপ দেখলে অবিলম্বে সতর্ক হওয়া উচিত।

ফোনে অচেনা অ্যাপের উপস্থিতি
যদি আপনার ফোনের হোম স্ক্রিন কিংবা সেটিংসের অ্যাপ তালিকায় এমন কোনো অ্যাপ নজরে আসে যা আপনি কখনো নিজে ইনস্টল করেননি, তবে ধরে নিতে পারেন আপনার ফোনটি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। থার্ড-পার্টি অ্যাপ স্টোর থেকে কিছু ডাউনলোড করার সময় এই ম্যালওয়্যারগুলো চুপিসারে ফোনে ঢুকে পড়ে। যদিও গুগল প্লে স্টোরের 'প্লে প্রটেক্ট' ফিচারটি নিয়মিত অ্যাপ স্ক্যান করে নিরাপত্তা দেয়, তবুও অনেক সময় চতুর ভাইরাস এই সুরক্ষাবলয় ভেদ করে ফেলে। এমন কোনো অ্যাপ দেখামাত্রই তা ডিলিট করা উচিত এবং প্রয়োজনে পুরো ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
কোনো কারণ ছাড়াই ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া
বর্তমান যুগের আধুনিক স্মার্টফোনগুলো সাধারণ চ্যাটিং বা ওয়েব ব্রাউজিংয়ের সময় মোটেও গরম হয় না। তবে ফোনে ম্যালওয়্যার থাকলে তা ব্যাকগ্রাউন্ডে গোপনে সচল থেকে আপনার কন্ট্যাক্ট লিস্ট, ইমেইল এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে থাকে। এই গোপন কার্যক্রমের কারণে ফোনের প্রসেসরের ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়ে এবং ফোনটি চুল্লির মতো গরম হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে প্রসেসরের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ফোন অত্যন্ত স্লো বা ধীরগতির হয়ে যায় এবং ব্যাটারির চার্জও দ্রুত শেষ হতে শুরু করে।
আরও পড়ুন: মোবাইল ডেটা দ্রুত শেষ হচ্ছে? স্মার্টফোনের ডেটা সাশ্রয় করার ৪টি কার্যকর
অস্বাভাবিক হারে ইন্টারনেট ডেটা ফুরিয়ে যাওয়া
হঠাৎ করে ইন্টারনেট ডেটার ব্যবহার অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যাওয়াও ফোন হ্যাক হওয়ার একটি বড় সতর্কবার্তা। যেহেতু ম্যালওয়্যারগুলো আপনার ফোন থেকে ক্রমাগত তথ্য চুরি করে হ্যাকারদের মূল সার্ভারে পাঠাতে থাকে, তাই ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রচুর ডেটা খরচ হয়। ফোনের সেটিংসে গিয়ে 'ডাটা ইউজেস' অপশনটি চেক করলে কোন অ্যাপ কত ডেটা খাচ্ছে তা দেখা যায়। অনেক সময় এই ভাইরাসগুলো 'সিস্টেম অ্যাপ' কিংবা 'ক্যালকুলেটর'-এর মতো ছদ্ম নাম নিয়ে লুকিয়ে থাকে। এমন সন্দেহজনক অ্যাপ দেখলে দ্রুত সেটির ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করে দেওয়া দরকার।
অচেনা ও রহস্যময় কার্যকলাপে ফোনের সেটিংস পরিবর্তন
সবচেয়ে বিপজ্জনক লক্ষণ হলো ফোনে আপনার অজান্তেই বিভিন্ন সেটিংস বা ব্রাউজারের হোমপেজ বদলে যাওয়া। এমনকি হ্যাকড হওয়া ফোন থেকে আপনার কন্ট্যাক্ট লিস্টে থাকা বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন বিপজ্জনক লিংক চলে যেতে পারে। সামনের মানুষটি আপনাকে বিশ্বাস করে সেই লিংকে ক্লিক করলেই ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়ে। কিছু মারাত্মক স্পাইওয়্যার আবার আপনার কিবোর্ডের প্রতিটি কি-স্ট্রোক রেকর্ড করে রাখে, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেয়। এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সাইবার সেলকে অবহিত করা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা বাধ্যতামূলক।
এজেড