images

তথ্য-প্রযুক্তি

ইনস্টাগ্রাম রিলসে ভিউজ এবং লাইকস আসছে না? বদলে ফেলুন এই গোপন সেটিংস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২৩ মে ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ইনস্টাগ্রাম অন্যতম জনপ্রিয় একটি প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত রিলস শেয়ার বা পোস্ট করেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। তবে অনেকেই রিলস পোস্ট করার পর প্রত্যাশামতো লাইকস এবং ভিউজ পান না, যা তাদের হতাশ করে। অনেকেই ভাবেন হয়তো তাদের কনটেন্ট বা ভিডিও ভালো হচ্ছে না; কিন্তু এর পেছনে শুধু কনটেন্টই একমাত্র কারণ নয়। অনেক সময় আমাদের অজান্তেই ফোন এবং ইনস্টাগ্রামের কিছু গোপন বা হিডেন সেটিংস ভিডিওর রিচ (বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা) কমিয়ে দেয়। ফলে ভিডিওর মান ভালো হলেও তা বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে না। কিছু সহজ সেটিংস পরিবর্তন করলেই রিলসের পারফরম্যান্স বা কার্যকারিতা অনেকটাই বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।

IG-REELS-NEW-FEATURES

অনেকেরই সবচেয়ে বড় ভুল হলো তারা কম রেজুলেশন বা লো কোয়ালিটির ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওর মান খারাপ হলে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম সেই রিলসটি কম মানুষের কাছে প্রদর্শন করে। এই সমস্যা দূর করতে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি খুলে এর সেটিংস অপশনে যেতে হবে। সেখানে 'ডাটা ইউজেস অ্যান্ড মিডিয়া কোয়ালিটি' নামের একটি অপশন পাওয়া যাবে। সেই অপশনে প্রবেশ করে 'আপলোড অ্যাট হায়েস্ট কোয়ালিটি' ফিচারটি অন বা চালু করে দিতে হবে। এই সেটিংটি অন থাকলে ভিডিওটি সবসময় সর্বোচ্চ মানের বা হাই কোয়ালিটিতে আপলোড হবে, যা ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা বা এনগেজমেন্ট বাড়াতে দারুণ সাহায্য করবে।

স্মার্টফোনে ডাটা সেভার বা ব্যাটারি সেভার মোড চালু রাখা রিলসের রিচ কমে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ। ফোনে যদি এই মোডগুলো অন থাকে, তবে ইনস্টাগ্রাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিলসের ভিডিও কোয়ালিটি এবং রিচ—দুটোই সীমিত করে দেয়। বিশেষ করে অ্যানড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে এই ফিচারগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট সংযোগ এবং ভিডিও প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের গতি ধীর করে ফেলে। তাই রিলস ভিডিও আপলোড করার ঠিক আগে ফোনের ব্যাটারি সেভার এবং ডাটা সেভার অফ বা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এর ফলে ভিডিও দ্রুত প্রসেস হবে এবং ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম সেটিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উৎসাহিত হবে।

Facebook-Reels-and-Instagram-Reels

ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম সবসময় ট্রেন্ডিং অডিও বা চলতি ধারার মিউজিক যুক্ত রিলসগুলোকে বেশি প্রোমোট বা প্রচার করে। ভিডিওতে পুরনো কিংবা কপিরাইট বা স্বত্বাধিকার যুক্ত গান ব্যবহার করলে সেটির রিচ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রিলস তৈরি করার সময় অ্যাপের ট্রেন্ডিং মিউজিক সেকশনটি ভালো করে দেখে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব অডিও বা গানের পাশে একটি তীর বা অ্যারো চিহ্ন দেখা যায়, সেগুলোই মূলত ট্রেন্ডে বা চলতি ধারায় থাকে। এই ধরনের জনপ্রিয় গানগুলো রিলসে ব্যবহার করলে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

খুব কম মানুষই জানেন যে ইনস্টাগ্রামের অ্যাকাউন্টের ধরন বা অ্যাকাউন্ট টাইপও রিচের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। আপনার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি যদি প্রাইভেট বা ব্যক্তিগত করা থাকে, তবে আপনার রিলস কখনোই অপরিচিত বা বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। এই জন্য অ্যাকাউন্টটি সবসময় পাবলিক বা উন্মুক্ত রাখা উচিত। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টকে প্রফেশনাল বা পেশাদার অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করা আরও বেশি উপকারী। কারণ প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট থাকলে ইনসাইটস এবং অডিয়েন্স ডাটা বা দর্শক সম্পর্কিত তথ্য খুব সহজেই দেখা যায়। এর ফলে কোন ধরনের কনটেন্ট বা ভিডিও দর্শকেরা বেশি পছন্দ করছেন, তা সহজেই বুঝে নেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: চ্যাটজিপিটি ও জেমিনিকে এই ৫টি তথ্য ভুলেও দেবেন না

প্রতিটি রিলস ভিডিও পোস্ট করার সময় অতিরিক্ত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়, বরং এটি উল্টো ক্ষতি করতে পারে। ইনস্টাগ্রাম অতিরিক্ত হ্যাশট্যাগকে স্প্যাম বা ক্ষতিকর কার্যক্রম হিসেবে ধরে নেয় এবং ভিডিওর রিচ কমিয়ে দেয়। তাই রিলসের ক্যাপশনে সবসময় মাত্র ৪ থেকে ৬টি প্রাসঙ্গিক বা রেলিভেন্ট হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা উচিত। সবসময় এমন হ্যাশট্যাগ বেছে নেওয়া দরকার যা আপনার ভিডিওর বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অপ্রাসঙ্গিক বা বারবার একই ট্যাগ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ভালো।

সর্বোপরি, রিলস পোস্ট করার ক্ষেত্রে সঠিক সময় বা টাইমিং মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন রিলস পোস্ট করছেন, তখন যদি আপনার ফলোয়ার্স বা অনুসারীরা অনলাইন বা সক্রিয় না থাকেন, তবে শুরুর দিকে ভিডিওর এনগেজমেন্ট বা দর্শক প্রতিক্রিয়া কম হবে। ইনস্টাগ্রাম সাধারণত ভিডিও পোস্ট করার প্রথম দিকের পারফরম্যান্স দেখেই সেটিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পুশ বা প্রচার করে। অভিজ্ঞ ক্রিয়েটর বা কনটেন্ট নির্মাতাদের মতে, সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা এবং সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে রিলস পোস্ট করা সবচেয়ে কার্যকরী। নিয়মিত এই নির্দিষ্ট ও সঠিক সময়গুলো মেনে ভিডিও পোস্ট করলে ধীরে ধীরে রিলসের ভিউজ এবং লাইকস উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে শুরু করবে।

এজেড