তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২০ মে ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
একের পর এক মামলা করছেন, আইনি লড়াই লড়ছেন এবং হারছেন। বিশ্বসেরা ধনকুবের এবং টেসলার সিইও ইলন মাস্কের ক্ষেত্রে এটিই যেন এখন নিয়মিত রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যানের কাছে মাস্কের আইনি পরাজয় এর সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে এক্সের (সাবেক টুইটার) কর্মী এবং বিনিয়োগকারীদের করা পৃথক দুটি মামলাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছেন তিনি। কিন্তু এত কিছুর পরও কেন আইনি লড়াইয়ে মরণপণ লড়ে যাচ্ছেন এই বেপরোয়া ব্যবসায়ী, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
২০২২ সালে টুইটার কিনে নেওয়ার পর ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করেছিলেন মাস্ক। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, বোনাস এবং বকেয়া বেতন না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। আদালতে প্রথমে লড়লেও পরবর্তীতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে মোটা অংকের সেটলমেন্ট বা সমঝোতা করতে বাধ্য হন তিনি, যা এক প্রকার হার স্বীকারেরই শামিল। এছাড়া চলতি বছরের মার্চে এক্সের বিনিয়োগকারীদের করা অন্য একটি মামলাতেও হেরে যান মাস্ক। আবার এক্স থেকে বহু বিজ্ঞাপনদাতা চলে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন তিনি, তবে সেখানেও জিততে পারেননি।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোনের সংজ্ঞা পাল্টাচ্ছে চ্যাটজিপিটি; কথা শুনেই চলবে ফোন
এখানেই শেষ নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারে সরকারি খরচ ও ব্যয় সংকোচন দফতরের প্রধান হওয়ার পর নতুন বিতর্কে জড়ান মাস্ক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, যেসব সংস্থার সঙ্গে তার মতাদর্শ মেলে না, তাদের অনুদান বাতিল করে দিয়েছেন তিনি। এর প্রেক্ষিতে গবেষক ও শিক্ষাবিদদের করা মামলায় আদালতে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েন এই ধনকুবের। এমনকি ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেও বিচারকের স্পষ্ট প্রশ্নের মুখে হেরে যান তিনি।
টানা এত মামলার ধাক্কায় সাধারণত যে কেউ রণে ভঙ্গ দিতেন, কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন মাস্ক সহজে থামার পাত্র নন। তার এই চরম আগ্রাসী মনোভাবের পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি। খুব শীঘ্রই নিজের রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’-কে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করতে চলেছেন তিনি। ব্যবসার পরিভাষায় এই সময়টাকে ‘কোয়াইট পিরিয়ড’ বলা হয়, যখন সংস্থার শীর্ষ কর্তারা সাধারণত প্রকাশ্যে খুব একটা মন্তব্য করেন না। কিন্তু মাস্ক প্রচলিত নিয়মের তোয়াক্কা না করে আইনি লড়াইকেই প্রচারের আলোয় থাকার মাধ্যম বানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলা মানেই মিডিয়ার স্পটলাইট নিজের দিকে রাখা। আদালতকে তিনি মূলত প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে সিদ্ধহস্ত। একই সঙ্গে সমর্থকদের কাছে নিজের লড়াকু ইমেজও বজায় রাখছেন তিনি। শত্রুর বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে অনেকে তার মিল খুঁজে পান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিস্থিতি যত নেতিবাচকই হোক না কেন, কোনো বদনাম যেন মাস্কের গায়ে দাগ কাটতে পারে না। তিনি যেন কাদা ঝেড়ে ঠিকই বেরিয়ে আসেন নিজের চেনা ছন্দে।
এজেড