তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুক চেক করা, একটি নোটিফিকেশনেই অস্থির হয়ে ওঠা কিংবা রাত জেগে নিউজফিড স্ক্রোল করা—২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই আসক্তি আমাদের মস্তিষ্কের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা কি আমরা জানি? গবেষকদের মতে, মাত্র ৩০ দিনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট বা বন্ধ রাখলে মস্তিষ্কে এবং জীবনযাপনে আসতে পারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
ডোপামিনের ভারসাম্য রক্ষা
সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক বা কমেন্টের নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিক 'ডোপামিন' হরমোন নিঃসৃত করে। বারবার নোটিফিকেশন চেক করার ফলে এই হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ১ মাসের বিরতি নিলে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে, তবে ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তখন বাস্তব জীবনের ছোট ছোট বিষয়গুলোতেও আপনি আগের চেয়ে বেশি আনন্দ পেতে শুরু করবেন।

মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি
বারবার নোটিফিকেশন চেক করার অভ্যাস আমাদের কাজের মনোযোগ নষ্ট করে। সোশ্যাল মিডিয়ার অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট নিয়ে মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকায় গভীর চিন্তার ক্ষমতা কমে যায়। বিরতি নিলে পুনরায় কাজে মন দেওয়া সহজ হয় এবং মনোযোগ বাড়ে।
উদ্বেগ ও মানসিক চাপ হ্রাস
অন্যদের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করা কিংবা ‘ফোমো’ (FOMO - Fear of Missing Out) বা কিছু মিস করার ভয় আমাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে এই কৃত্রিম উদ্বেগ কমে যায় এবং জীবনে মানসিক প্রশান্তি ফিরে আসে।

উন্নত ঘুমের মান
ঘুমানোর আগে স্মার্টফোনের নীল আলো আমাদের শরীরে 'মেলাটোনিন' হরমোনের প্রভাব কমিয়ে দেয়, যার ফলে ঘুমের মান খারাপ হয়। সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ রাখলে রাতে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত হয়।
আরও পড়ুন: আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত?
বাস্তব সম্পর্কগুলো জোরালো হয়
ভার্চুয়াল জগতে বুঁদ হয়ে থাকায় অনেক সময় কাছের মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলা বা সময় কাটানো হয় না। এক মাসের এই বিরতি আপনাকে বাস্তবের সম্পর্কগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ দেবে এবং সামনাসামনি যোগাযোগের অভ্যাস ফিরিয়ে আনবে।
এজেড