images

তথ্য-প্রযুক্তি

কন্টেন্ট কপি-পেস্ট করছে ৮২.৪ শতাংশ ব্যবহারকারী

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও তা এখনো মূলত প্রাথমিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮২.৪ শতাংশ কপি-পেস্ট করছে। তবে ডিজিটাল সেবা বিস্তারের পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি এক্সেস অ্যান্ড ইউজ সার্ভে ২০২৪-২৫’-এর তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপটি উপস্থাপন করেন ব্যক্তি ও খানা শখায়ে জেলা ভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রযোেগ পরিমাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি।

জরিপে দেখা যায়, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে প্রধানত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে সরকারি চাকরির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি—৬৪.২ শতাংশ ব্যবহারকারী অনলাইনে চাকরির খবর অনুসন্ধান করেন। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া সংক্রান্ত তথ্য খোঁজেন ৪৯.৮ শতাংশ মানুষ।

তবে অনলাইনে লেনদেন বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। ই-কমার্স বা অনলাইনে পণ্য ও সেবা কেনার হার মাত্র ১১.৬ শতাংশ। 

একইভাবে গত এক বছরে অনলাইনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মাত্র ১৬.৯ শতাংশ ব্যবহারকারী এবং পাসপোর্ট সেবা গ্রহণে অনলাইন ব্যবহার করেছেন ২৩ শতাংশ মানুষ।

ডিজিটাল দক্ষতার চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাধারণ বা বেসিক কাজে ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ। কপি-পেস্ট ছাড়াও প্রায় ৫৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ই-মেইল বা অনলাইন মাধ্যমে ফাইল পাঠাতে পারেন। 

তবে উন্নত পর্যায়ের দক্ষতায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ফাইল স্থানান্তর বা জটিল ডিজিটাল কাজ করতে পারেন মাত্র ১৫.৬ শতাংশ ব্যবহারকারী।

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, সাইবার সমস্যার সম্মুখীন হওয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৭৮.৫ শতাংশ কোনো না কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, যা সচেতনতার একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তবে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সংক্রমণের হার এখনো ৫০.৫ শতাংশ, যা ঝুঁকির বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু ইন্টারনেট সংযোগ বৃদ্ধি করলেই ডিজিটাল অগ্রগতি নিশ্চিত হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন মানুষের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা এবং অনলাইন সেবার প্রতি আস্থা তৈরি করা। অন্যথায় ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুফল পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

এএইচ/এআরএম