তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
অসুখ-বিসুখ কিংবা শারীরিক যেকোনো সমস্যায় এখন মানুষের প্রথম ভরসাস্থল হয়ে উঠছে স্মার্টফোন। চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার আগে অনেকেই গুগলে সার্চ করছেন অথবা চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কাছে পরামর্শ চাইছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ‘ডিজিটাল নির্ভরতা’ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশেও এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সামান্য মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা কিংবা ল্যাবরেটরি রিপোর্টের জটিল শব্দ বুঝতে অনেকেই এআই-এর শরণাপন্ন হচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, এআই কেবল ইন্টারনেটে থাকা তথ্যের সমন্বয় করে, যা অনেক সময় রোগীর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা, বয়স বা পূর্বের রোগের ইতিহাসের সাথে মেলে না।
ভুল চিকিৎসায় প্রাণ সংশয়
সম্প্রতি একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। এক ব্যক্তি তার রক্তস্বল্পতার রিপোর্টে এআই-এর পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন। দীর্ঘ সময় পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকের কাছে গেলে ধরা পড়ে যে, তার আসলে কোলন ক্যানসার ছিল। এআই-এর ভুল ব্যাখ্যার কারণে সঠিক চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হওয়ায় তার জীবন এখন সংকটাপন্ন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি ও বাস্তবতা
আমাদের দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ কেনার সহজলভ্যতা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন-

অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা: বর্তমানে বিভিন্ন হেলথ প্যাকেজের নামে এমন অনেক পরীক্ষা করানো হয় যা অনেকের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। রিপোর্ট হাতে পেয়েই আতঙ্কিত হয়ে মানুষ ইন্টারনেটে সমাধান খোঁজে।
ভুল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এআই-এর পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক সেবন করলে কিডনি ও লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
উপসর্গ বনাম রোগ: এআই কেবল উপসর্গ বিশ্লেষণ করে, কিন্তু একজন চিকিৎসক রোগীর পারিবারিক ইতিহাস, জীবনযাপন ও শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের মূল কারণ নির্ণয় করেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, প্রযুক্তি সচেতনতা বাড়াতে পারে, কিন্তু তা কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য হৃদরোগের স্ক্রিনিং, নারীদের জন্য ম্যামোগ্রাম বা নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার পরীক্ষা নিয়মিত করা জরুরি। তবে যেকোনো রিপোর্টের ব্যাখ্যা এবং ওষুধের জন্য নিবন্ধিত চিকিৎসকের ওপর ভরসা করাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিরিক্ত ব্যবহার কি মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে?
মনে রাখবেন, তথ্যের সহজলভ্যতা যেন আপনার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। রোগ নির্ণয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং অভিজ্ঞ চিকিৎসকের বুদ্ধিমত্তাই শেষ কথা।
এজেড