তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
০১ মার্চ ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ভয়াবহ গরম পড়ার আগেই অনেকে নতুন এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কেনার পরিকল্পনা করছেন। তবে তাড়াহুড়া করে ভুল টনেজ বা কম স্টার রেটিংয়ের এসি কিনলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে কপালে ভাঁজ পড়তে পারে। ২০২৬ সালের নতুন বিইই (BEE) মানদণ্ড অনুযায়ী, এসি কেনার ক্ষেত্রে চারটি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চললে বছরে হাজার হাজার টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। জেনে নিন এসি কেনার সঠিক গাইডলাইন।
১. ঘরের আয়তন অনুযায়ী সঠিক 'টনেজ' নির্বাচন
অনেকেই ঘরের মাপ না বুঝে ১.৫ বা ২ টনের এসি কিনে ফেলেন। মনে রাখবেন, ১০০-১২০ বর্গফুট ঘরের জন্য ১ টন, ১২০-১৮০ বর্গফুটের জন্য ১.৫ টন এবং ১৮০ বর্গফুটের বেশি আয়তনের জন্য ২ টন এসি উপযুক্ত। ঘর অনুযায়ী এসি ছোট হলে কমপ্রেশার একটানা চলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায়, আবার খুব বড় এসি ঘন ঘন চালু-বন্ধ হয়ে শক্তি অপচয় করে।

২. স্টার রেটিং ও ২০২৬-এর নতুন নিয়ম
২০২৬ সাল থেকে স্টার রেটিংয়ের নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে। ৩-স্টার এসি শুরুতে সস্তা মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ৫-স্টার এসির চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। আপনি যদি প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা এসি চালান, তবে ৫-স্টার ইনভার্টার এসি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ৩-স্টার ও ৫-স্টারের দামের পার্থক্য ২-৩ বছরের বিদ্যুৎ বিলেই উশুল হয়ে যায়। কেনার সময় অবশ্যই ISEER মান দেখে নিন।
৩. ইনভার্টার বনাম নন-ইনভার্টার প্রযুক্তি
নন-ইনভার্টার এসি সস্তা হলেও এর কমপ্রেশার বারবার চালু ও বন্ধ হয়, যা ভোল্টেজ বেশি টানে। অন্যদিকে, ইনভার্টার এসি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রায় ৩০-৫০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহারের জন্য ইনভার্টার এসিই এখন সেরা পছন্দ।

৪. কপার কনডেন্সার ও বিক্রয়োত্তর সেবা
শুধুমাত্র ব্র্যান্ডের নাম দেখে এসি কেনা বড় ভুল। এসিতে অবশ্যই 'কপার কনডেন্সার' আছে কি না নিশ্চিত করুন, কারণ এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং দ্রুত ঘর ঠান্ডা করে। এছাড়া কমপ্রেশারে অন্তত ১০ বছরের ওয়ারেন্টি, অটো-ক্লিনিং ফিচার এবং আপনার এলাকায় ওই ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার আছে কি না তা যাচাই করে নিন।
আরও পড়ুন: কত বছর নিরাপদ থাকে একটি এসি? বিস্ফোরণ এড়াতে জেনে নিন এসির আয়ুষ্কাল
টিপস: এসির সঠিক ইনস্টলেশন না হলে কুলিং কম হয় এবং বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়। তাই দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি ফিটিং করান।
এজেড