Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

ডিপফেক ভিডিও চেনার উপায়

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

ইন্টারনেটে আমরা যা দেখছি, তার সবকিছুই কি সত্যি? প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এখন মানুষের চেহারা বা কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর এই বিশেষ কারসাজিকেই বলা হয় ‘ডিপফেক’ (Deepfake)। সম্প্রতি বিনোদন জগতের তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—অনেকেই এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন।

ডিপফেক ভিডিও কী?

'ডিপফেক' শব্দটি এসেছে ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং ‘ফেক’ (Fake) শব্দ দুটির সমন্বয়ে। এটি মূলত এআই প্রযুক্তির এমন এক শাখা যা মানুষের ছবি, ভিডিও এবং অডিও বিশ্লেষণ করে তার একটি কৃত্রিম ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করে। এর ফলে ভিডিওতে কোনো ব্যক্তির আসল মুখের ওপর অন্য কারো মুখ হুবহু বসিয়ে দেওয়া যায় এবং তাকে দিয়ে এমন সব কথা বলানো বা কাজ করানো সম্ভব, যা তিনি বাস্তবে কখনোই করেননি।

pasted-image-0-44

ডিপফেক ভিডিও কীভাবে চিনবেন?

ডিপফেক ভিডিওগুলো নিখুঁত মনে হলেও কিছু সূক্ষ্ম অসঙ্গতি পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই এটি ধরা সম্ভব। নিচে ডিপফেক চেনার কার্যকর কিছু উপায় দেওয়া হলো:

১. চোখের পলক পর্যবেক্ষণ: সাধারণ মানুষ কথা বলার সময় প্রতি ২ থেকে ১০ সেকেন্ড পরপর চোখের পলক ফেলে। কিন্তু অনেক ডিপফেক ভিডিওতে দেখা যায় ব্যক্তির চোখের পলক একদমই পড়ছে না অথবা অস্বাভাবিকভাবে পড়ছে।

২. ঠোঁট ও কণ্ঠস্বরের অমিল: ভিডিওতে ব্যক্তির ঠোঁট নাড়ানোর সাথে উচ্চারিত শব্দের কোনো সামান্য অসামঞ্জস্যতা আছে কি না লক্ষ্য করুন। অনেক সময় শব্দের চেয়ে ঠোঁট কিছুটা আগে বা পরে নড়ে।

Wiw3BxBZdplgGDEkBadwKrrQal1D5PGOs3GzsqoQ

৩. মুখের রেখা ও ত্বকের গঠন: ডিপফেক ভিডিওতে মানুষের মুখের ত্বক অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ দেখায়। বিশেষ করে গাল বা কপালের ভাঁজগুলো ঠিকমতো ফুটে ওঠে না। এছাড়া কান বা চুলের প্রান্তগুলো ঝাপসা বা কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে পারে।

৪. ছায়া ও আলোর প্রতিফলন: প্রকৃত ভিডিওতে আলোর প্রতিফলন সব সময় সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। কিন্তু ডিপফেক ভিডিওতে চোখের মণির ভেতরের আলোর প্রতিফলন বা চশমার গ্লাসে আলোর আচরণ প্রায়ই প্রাকৃতিক মনে হয় না।

৫. আবেগ ও অভিব্যক্তি: এআই এখনো মানুষের সূক্ষ্ম আবেগ বা অভিব্যক্তিগুলো পুরোপুরি নকল করতে পারে না। যদি দেখেন ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির হাসলে চোখের কোণে ভাঁজ পড়ছে না বা কথা বলার ধরণ রোবটিক মনে হচ্ছে, তবে সেটি ডিপফেক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আরও পড়ুন: এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও কীভাবে চিনবেন?

৬. ব্যাকগ্রাউন্ড ও ফ্রেম রেট: ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড যদি অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে থাকে বা মুখ নাড়ানোর সময় ভিডিওর ফ্রেম হঠাৎ করে বদলে যায়, তবে নিশ্চিত হোন এটি প্রযুক্তির কারসাজি।

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ডিপফেক ভিডিও ধরা তত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর কোনো ভিডিও দেখলেই তা বিশ্বাস করার আগে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। সন্দেহজনক মনে হলে ভিডিওর সোর্স বা উৎস পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এজেড