images

তথ্য-প্রযুক্তি

বাথরুমে ফোন ব্যবহার করছেন? এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আপনি

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৯ এএম

এখন স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলে না। বিছানা থেকে খাবার টেবিল, এমনকি বাথরুমেও সঙ্গী হচ্ছে এই ছোট যন্ত্রটি। কিন্তু আপনার এই সামান্য 'সময় কাটানো'র অভ্যাসই ডেকে আনছে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। 

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাথরুমে বসে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস পাইলস বা অর্শ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিচ্ছে। চিকিৎসকরা একে দেখছেন আধুনিক যুগের এক নীরব ঘাতক হিসেবে।

কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝুঁকির মূল কারণ হলো টয়লেটের সিট বা কমোডের গঠন এবং সেখানে কাটানো অতিরিক্ত সময়। যখন আপনি সাধারণ চেয়ার বা সোফায় বসেন, আপনার শরীরের নিচের অংশ বা পেলভিক ফ্লোর একটি সাপোর্ট পায়। কিন্তু টয়লেট সিটে বসার ধরনটি ভিন্ন।

SEI_264478311

অতিরিক্ত চাপ: দীর্ঘক্ষণ টয়লেট সিটে বসে থাকলে পেলভিক ফ্লোরের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়।

রক্ত সঞ্চালনে বাধা: এই চাপের ফলে মলদ্বার সংলগ্ন অঞ্চলের শিরাগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই জমাট বাঁধা রক্তই পরে যন্ত্রণাদায়ক অর্শ বা পাইলসে রূপ নেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চেয়েও বিপজ্জনক!

আমেরিকার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দেখা গেছে, যারা টয়লেটে ফোন নিয়ে যান, তাদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ মানুষই ৫ মিনিটের বেশি সময় সেখানে অবস্থান করেন। গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এভাবে বসে থাকার কুফল অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্যের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন থাকায় মানুষ বুঝতেই পারে না সে শরীরের ওপর কতটা ধকল দিচ্ছে।

SEI_264478311

সুরক্ষা পেতে চিকিৎসকদের পরামর্শ

পাইলসের মতো কষ্টদায়ক রোগ থেকে বাঁচতে চিকিৎসকদের পরামর্শ খুবই স্পষ্ট ও সহজ:

১. ফোন বাইরে রাখুন: টয়লেটে ঢোকার সময় স্মার্টফোনটি বাইরে রেখে যান। এটি আপনার টয়লেটে কাটানো সময়ের পরিমাণ কমিয়ে আনবে।

২. সময় কমান: প্রয়োজন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই টয়লেট ত্যাগ করুন। অকারণে সেখানে বসে সময় কাটাবেন না। ৩. সচেতনতা: শরীরের কোনো সংকেত বা অস্বস্তি অনুভব করলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন: ফোন টয়লেটের কমোডের চেয়েও নোংরা, জীবাণুমুক্ত করবেন যেভাবে

মনে রাখবেন, আধুনিক জীবনযাত্রার সামান্য একটি ভুল অভ্যাস আপনার জীবনকে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে আজই নিজের এই বদ-অভ্যাসটি পরিবর্তন করুন।

এজেড