images

তথ্য-প্রযুক্তি

গ্রাহকদের জন্য বিকাশের বিশেষ ভ্যাট-ট্যাক্স পেমেন্ট সল্যুশন চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

কর পরিশোধ ও আদায় ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য বিশেষায়িত ‘কর্পোরেট ভ্যাট-ট্যাক্স পেমেন্ট সল্যুশন’ চালু করেছে বিকাশ। এই সেবার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টা ভ্যাট, শুল্কসহ বিভিন্ন সরকারি কর পরিশোধ করা যাবে।

আজ রোববার আগারগাঁওস্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘e-TDS System হতে A-Challan System (ACS)-এ বিকাশ-এর মাধ্যমে Large Value ট্রানজেকশন’ সেবা। এর ফলে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর পরিশোধের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই বিশেষ মার্চেন্ট পেমেন্ট ওয়ালেটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডিসবার্সমেন্ট ওয়ালেট থেকে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বিকাশ মার্চেন্ট ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবে। এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিয়েল-টাইম কর পরিশোধ সম্ভব হবে।

picture

এই প্ল্যাটফর্মটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-TDS, IBAS, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল চালান তৈরি হবে এবং রিয়েল-টাইমে লেনদেনের অবস্থা যাচাই করা যাবে। এতে কাগজপত্র, ম্যানুয়াল রিকনসিলিয়েশন কিংবা সার্টিফিকেট আদান-প্রদানের প্রয়োজন থাকছে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অডিটরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সেবাটির উদ্বোধন করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে বিকাশের পক্ষ থেকে রিয়েল-টাইমে একটি ভ্যাট ও একটি ট্যাক্স পেমেন্ট প্রদর্শন করা হয় এনবিআর কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সামনে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই সেবা চালুর মাধ্যমে কর ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজেশন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর পরিশোধ আরও সহজ হবে এবং রিয়েল-টাইম আপডেট পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও কমবে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। অর্থনীতি আরও ডিজিটাল হলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি আরও জানান, অনলাইনে কর আদায় ব্যবস্থা e-TDS আরও শক্তিশালী করা গেলে সার্বিক কর আদায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিকাশের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মঈনুদ্দিন মোহাম্মদ রাহগীর বলেন, এই পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সপ্তাহের যেকোনো দিন, যেকোনো সময় কর, শুল্ক ও অন্যান্য সরকারি ফি পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকিং সময়ের সীমাবদ্ধতা বা ব্যাংকে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন না থাকায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মক্ষেত্র থেকেই সহজ ও নিরাপদভাবে কর পরিশোধ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, সেবা গ্রহণের খরচ কমবে এবং ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়ে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এমআর/এআর