images

তথ্য-প্রযুক্তি

রিখটার স্কেল কী? রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের সর্বাধিক তীব্রতা কত

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

ভূমিকম্পের মাত্রা মাপার সবচেয়ে পরিচিত পদ্ধতির নাম রিখটার স্কেল। ভূমিকম্প ঘটলে সেটি কতটা শক্তিশালী ছিল, কতদূর পর্যন্ত কম্পন ছড়িয়েছে এবং কতটুকু শক্তি নির্গত হয়েছে, এসব নির্ধারণে এই স্কেল বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ভূ-বিজ্ঞান—উভয় ক্ষেত্রেই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিমাপক।

রিখটার স্কেল কী?

১৯৩৫ সালে মার্কিন ভূকম্পবিদ চার্লস এফ. রিখটার ও বেনো গুটেনবার্গ যৌথভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা পরিমাপের জন্য একটি গণনাভিত্তিক পদ্ধতি তৈরি করেন। তার নাম দেওয়া হয় রিখটার ম্যাগনিটিউড স্কেল।

এটি একটি লগারিদমিক স্কেল, অর্থাৎ প্রতিটি মাত্রা পূর্বের মাত্রার তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি কম্পন এবং প্রায় ৩১.৬ গুণ বেশি শক্তি প্রকাশ করে।

উদাহরণ:

৬ মাত্রার ভূমিকম্প ৫ মাত্রার তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি কম্পন তৈরি করে।

1f9228de5a7928cf747d3486addc1f244630de5edfb2468f

রিখটার স্কেলের মূল বৈশিষ্ট্য

এটি ১.০ থেকে শুরু হলেও এর সর্বোচ্চ সীমা নির্দিষ্ট নয়।

তবে স্বাভাবিকভাবে ৮-এর ওপরে ভূমিকম্পকে মহাবিধ্বংসী ধরা হয়।

রিখটার স্কেল এখন ঐতিহাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি অপরিবর্তিত।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা আরও উন্নত মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল (Mw) ব্যবহার করেন, তবে গণমাধ্যম ও সাধারণ আলোচনায় রিখটার স্কেইলের নামই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের সর্বাধিক তীব্রতা কত?

রিখটার স্কেলের তাত্ত্বিকভাবে কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই, কারণ এটি খোলা প্রান্তের (open-ended) লগারিদমিক স্কেল।

তবে পৃথিবীর ভূত্বকের শক্তি সঞ্চয়ের সীমা রয়েছে। সেই কারণে বাস্তবে এখন পর্যন্ত মহাবিধ্বংসী ভূমিকম্পের সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল প্রায় ৯.৫।

MAIN_SCALE_PIC

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভূমিকম্প

৯.৫ মাত্রা

চিলির ভ্যালডিভিয়া ভূমিকম্প, ১৯৬০

এটি পৃথিবীতে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

আরও পড়ুন: হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে কী করবেন, কী করবেন না

ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণায় বলা হয়

পৃথিবীর পৃষ্ঠের ভৌত কাঠামো বিবেচনায় রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প ১০ মাত্রায় পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। কারণ এত শক্তি সঞ্চয় করার মতো বৃহৎ প্লেট-গতি পৃথিবীর ভূত্বকে নেই।

MAIN_SCALE

রিখটার স্কেলের মাত্রা অনুযায়ী ভূমিকম্পের প্রভাব

ভূমিকম্পের মাত্রা ও  প্রভাব

২.০–৩.০: সাধারণত অনুভূত হয় না, শুধু যন্ত্রে ধরা পড়ে
৪.০–৫.০: হালকা কম্পন, ছোটখাটো ক্ষতি
৬.০–৬.৯: মাঝারি থেকে বড় ধরনের ক্ষতি
৭.০–৭.৯: অত্যন্ত শক্তিশালী, বড় এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি
৮.০ বা তার বেশ: মহাবিধ্বংসী, কাঠামো ধসে পড়া, সুনামির ঝুঁকি

আজকের দিনে কেন রিখটার স্কেল এখনো আলোচনায়?

যদিও আধুনিক ভূমিকম্প বিজ্ঞান এখন মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল ব্যবহার করে,
তবুও—

সাধারণ মানুষ

গণমাধ্যম

সঙ্কটকালীন তথ্য পরিবেশন

ঐতিহাসিক তুলনা

এসবক্ষেত্রে রিখটার স্কেল সবচেয়ে সহজবোধ্য হওয়ায় এটি এভারগ্রিন প্রাসঙ্গিকতা ধরে রেখেছে।

আরও পড়ুন: কিছু মানুষ কেন ভূমিকম্প টের পান না?

রিখটার স্কেল পৃথিবীর ভূমিকম্প মাপার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ভূমিকম্পের শক্তি সম্পর্কে সহজ ভাষায় ধারণা দেয়, যদিও বাস্তবে সর্বোচ্চ তীব্রতা ৯.৫ মাত্রার বেশি পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞান আরও উন্নত স্কেল ব্যবহার করলেও রিখটার স্কেলের জনপ্রিয়তা এবং স্বীকৃতি এখনো অপরিবর্তিত—এ কারণেই এটি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিভাগের জন্য একটি এভারগ্রিন আলোচ্য বিষয়।

এজেড