তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৩ এএম
এই ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। বাসা-বাড়ি, অফিস, আদালত থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা বুঝতেও পারি না, আমাদের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক হ্যাকারদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। একবার কেউ অনুমতিহীনভাবে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়লে ব্যক্তিগত তথ্য, অফিসিয়াল ডেটা এমনকি ব্যাংকিং তথ্যও হুমকির মুখে পড়ে।
ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক হ্যাকিং মূলত নেটওয়ার্কের দুর্বলতা ব্যবহার করে করা হয়।
দুর্বল পাসওয়ার্ড বা ডিফল্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।
পুরোনো এনক্রিপশন সিস্টেম (যেমন WEP বা WPA) চালু থাকা।
রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট না করা।
নেটওয়ার্কে অচেনা ডিভাইস সহজে যুক্ত হয়ে যাওয়া।
এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই হ্যাকাররা সহজে নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ছবি, ভিডিও, ব্যাংকিং তথ্য চুরি হতে পারে।
অফিস বা আদালতের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অনেকে সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অবৈধ কাজ করলে দায়ভার পড়ে আসল ব্যবহারকারীর ওপর।

ওয়াইফাই নিরাপদ রাখতে কিছু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি—
কমপক্ষে ১২ অক্ষরের পাসওয়ার্ড দিন, যেখানে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন থাকবে।
WPA2 বা WPA3 এনক্রিপশন ব্যবহার করুন। পুরোনো WEP একেবারেই ব্যবহার করবেন না।
রাউটারের ফার্মওয়্যার নিয়মিত আপডেট করে নিন, যাতে নতুন নিরাপত্তা সুবিধা যুক্ত হয়।
রাউটারের ডিফল্ট SSID ও অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
রাউটারের সেটিংসে গিয়ে দেখে নিন কোনো অচেনা ডিভাইস যুক্ত আছে কি না। থাকলে সাথে সাথে ব্লক করুন।
অতিথি বা বাইরের কারও জন্য আলাদা গেস্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন, যাতে মূল নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত থাকে।
VPN ব্যবহার করুন
সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের সময় VPN ব্যবহার করলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: যেভাবে বুঝবেন আপনার অজান্তে ওয়াইফাই অন্য কেউ ব্যবহার করছে
ওয়াইফাই আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এটি সুরক্ষিত না রাখলে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সচেতন হয়ে নিয়মিত নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করা এবং সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়।
এজেড