তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:২৯ এএম
শীতে একটুখানি উষ্ণতা পেতে অনেকে বাসা-বাড়িতে রুম হিটার চালান। এই যন্ত্র প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ করে। কিন্তু আপনি সঠিক নিয়মে রুম হিটার চালালে বিদ্যুৎ বিল থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
এই শীতে মোটা টাকার বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। গরমে ফ্রিজ, এসি, পাখা বন্ধ। কিন্তু শীতে রুম হিটার, ইলেকট্রিক ব্ল্যাঙ্কেট এবং গিজার চালান। খরচ কমার নাম নেই। তবে স্পেস হিটার মুশকিল আসান হতে পারে। থার্মোস্ট্যাট নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় স্থির রেখে চালালে বিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
স্পেস হিটারে পুরো বাড়ি গরম হবে না। দরকারও নেই। কেউই একই সময়ে বাড়ির সবকটা ঘরে থাকতে পারে না। তাই যে ঘরে ব্যক্তি বেশিক্ষণ থাকবেন, সেই ঘরটা গরম করাই ভাল। যেমন দিনের বেলা হোম অফিস বা সন্ধ্যায় বসার ঘর।
আরও পড়ুন: শীতে রুম হিটার চালানোর সময় এই ভুলগুলো করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে
মোটামুটি অক্টোবর-নভেম্বর থেকেই শীত পড়ে যায়। চলে মার্চ পর্যন্ত। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশন ২০২৪-এর ১ অক্টোবর থেকে ২০২৫-এর ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮১ দিনের জন্য বাড়ি গরম রাখার খরচ হিসেব করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য হিটারের তুলনায় স্পেস হিটার ব্যবহার করলে প্রতি মাসে খরচ অন্তত ৫০ ডলার কম হয়।
৫০ ডলার মানে কম কথা নয়। দিনে সবসময় হিটার চালানোর প্রয়োজনও পড়ে না। মূলত সন্ধ্যা থেকেই লাগে। সেই হিসেবে দিনে ৮ ঘণ্টা ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে খরচ আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

অধিকাংশ স্পেস হিটারেই তিনটি অপশন থাকে। লো, মিডিয়াম এবং হাই। কত ওয়াট বিদ্যুতে ঘর গরম করবে তাই বোঝায় এই সেটিংস। ধরে নেওয়া যাক, কারও কাছে একটি স্পেস হিটার আছে যা সর্বোচ্চ ১,৫০০ ওয়াট পর্যন্ত ঘর গরম করতে পারে। এখন যদি এটাকে লো সেটিংসে রাখা হয়, তাহলে মোট ক্ষমতার ৭৫০ ওয়াট ব্যবহার করবে।
ফলে বিদ্যুৎ খরচও কমবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খুব বেশি গরমের প্রয়োজন না হলে মিডিয়াম বা হাই সেটিংস ব্যবহার না করাই ভালো। বাংলাদেশের মতো দেশে ঘর এতটা গরম করার প্রয়োজনও হয় না। তাই বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখাতে স্পেস হিটার এভাবে ব্যবহার করাই উচিত।
সাধারণত দুই রকমের স্পেস হিটার হয়। কনভেকশন হিটার এবং রেডিয়েন্ট হিটার। কনভেকশন হিটারে কয়েল থাকে। বিদ্যুৎ সেটাকে গরম করে। আর পাখা সেই গরমকে ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। আর রেডিয়েন্ট হিটার থেকে ইনফ্রারেড রেডিয়েশন নিঃসরণ হয়। ঘর গরম থাকে।
বলে রাখা ভালো, রেডিয়েন্ট হিটার দ্রুত কাজ করে। অল্প এলাকা খুব তাড়াতাড়ি গরম হয়ে যায়। অন্য দিকে, কনভেকশন হিটার অনেকটা এলাকা ধীরে ধীরে গরম করে। প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট হিটার বেছে নিতে হবে।
এজেড