স্পোর্টস ডেস্ক
০২ এপ্রিল ২০২৩, ০২:৫৬ পিএম
অন্ধকার থেকে আলোর মঞ্চে উঠে আসা মেয়েদের কল্যাণে ২০২২ সালে বাংলাদেশ পেয়েছিল সাফের ষষ্ঠ আসরের শিরোপা জয়ের স্বাদ। মারিয়া মান্দা, রুপনা চাকমা, সাবিনা খাতুনদের হাত ধরেই দেশবাসী পেয়েছিল আনন্দ ও গৌরবের মুহূর্ত। তবে সাফ জয়ের পর থেকে কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। গত মাসে সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সেটা বাতিল হয়।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, আর্থিক কারণে তারা সফরটি করতে পারছেন না। তাই বাফুফের এমন কান্ডে হতাশ হয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় মুখ ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জানান, সাবিনা-কৃষ্ণা রানীদের জন্য নিজের একাডেমির বাস ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করে তাদের পাশে দাঁড়াবেন তিনি। তবে ব্যারিস্টার সুমনের আশ্বাসে সাড়া দেয়নি বাফুফে।
আরও পড়ুন- ফুটবলে বাংলার মেয়েদের ‘বিপ্লব’
আজ দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে ব্যারিস্টার সুমন এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজ (রবিবার) আমার ফুটবল ফেডারেশনকে দেওয়ার জন্য ৪০ লক্ষ টাকার চেক নিয়ে বসে থাকার কথা। তবে এই টাকাটা বাফুফে নিতে পারলেন না। কারণ এইটা নেওয়ার শক্তি তাদের নেই। তাছাড়াও এই টাকাটা নিলে তো তারা নয়ছয় করতে পারবে না।’

এর আগে গত ৩০ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জানিয়েছিলেন, ‘পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশ দল পাঠাচ্ছে বিদেশে খেলার জন্য। আর আমার দেশ যাবে বাছাই পর্ব খেলতে এবং বাছাইতে যদি তারা জিতে, তারা ২০২৪ সালে ফ্রান্সে অলিম্পিক খেলতে যাবে। আর এখানে আমার ফুটবল ফেডারেশন বলছে অর্থের অভাবে যেতে পারবে না মেয়েরা। অথচ এই ফুটবল ফেডারশন ১০০ কোটি টাকা খরচ করে মেসির আর্জেন্টিনাকে আনার কথা বলছে।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এমন দায়িত্বহীনতার বলি হয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা কেন দেশের বাইরে খেলতে যেতে পারবে না, এমন প্রশ্নও বাফুফে কর্মকর্তাদের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন। তাছাড়াও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের যোগ্যতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। এমনকি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কেও দোষারোপ করতে ভুলেননি ব্যারিস্টার সুমন।
আরও পড়ুন- মোহাম্মদ সালাহ: মিশরীয় ফুটবলের রাজা
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাফ জয়ের পর অনেকেই বলেছিল মেয়েদের টাকা দিবেন, কিন্তু আপনারা কেউ টাকা দেননি। আপনাদের লজ্জা থাকা উচিত। আর লজ্জা থাকবে কীভাবে আপনাদের? আপনাদের বিরুদ্ধে তো অভিযোগের শেষ নাই, যা পারেন লুটপাট করেন। কিন্তু ফুটবলটাকে নষ্ট কইরেন না। কারণ ফুটবলে আমাদের একটা আবেগের জায়গা আছে। তাই পাপের ঘর পূর্ণ হয়ে আজরাইল জন্ম নেওয়ার আগে শুধরে যান।’
এই সময় ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘আখিরাতে যদি বিশ্বাস করেন আর আমি যদি নাও থাকি, এই বিচার দিয়ে রাখলাম-একসাথে সবকিছু নিয়ে ভেঙে পড়বেন। তখন কিন্তু আপনাদের বাঁচানোর কেউ থাকবে না। আরও যদি টাকা লাগে, আগে বইলেন। তিন চারদিন আগে বইলেন। আপনাদের টাকা দিব। তাও যদি আপনাদের অমানুষ হওয়াকে কিছুটা কমাইতে পারি, আর ফুটবলটাকে যেন বাঁচাইতে পারি।’
এফএইচ